


কাঠমান্ডু, ২৭ আগস্ট: নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিপর্যয়। তিব্বত সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চল থেকে নেমে আসা প্রবল জল, কাদা, বরফ ও পাথরের স্রোত মুহূর্তের মধ্যে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে রাস্তা, সেতু, বসতি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। গতকালের এই বিপর্যয়ের পর এখন উত্তর নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধুই ধ্বংসের ছবি। চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ।
সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিপর্যস্ত এলাকায় অন্তত ৩২৩ টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ এখন কাদামাটির তলায়। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা এই স্তূপের তলায় আটকে রয়েছে বহু নিথর দেহ। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী যেমন আছেন, তেমনই আছেন বিপুল সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক। নেপাল সরকারের তথ্য অনুসারে, মোট ৩৮৪ জন পর্যটক, ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক নিখোঁজ হয়েছেন। যার মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। বর্তমানে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা চলছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ৫৯ জন মানস সরোবর যাত্রার জন্যই তিব্বতের দিকে যাচ্ছিলেন বলে খবর। এর মধ্যে ৩৩ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, তিব্বতে হিমালয়ের উঁচু এলাকায় বিশাল বরফ ও পাথরের অংশ ধসে নদী উপত্যকায় নেমে আসার পরই এই ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। তবে বিপর্যয়ের সঠিক কারণ নিয়ে এখনও তদন্ত ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ চলছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রসুয়াগড়ি, তিমুরে ও আশপাশের এলাকা। বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দুর্গতদের কাছে পৌঁছনো আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা হেলিকপ্টার এবং স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। বিপর্যস্ত এলাকায় এখনও নতুন করে ভূমিধস বা বন্যার আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে। ভারতের দিকেও নিম্নবর্তী নদী অববাহিকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারত দুই দফায় ৪৭.৫ টন ত্রাণ পাঠিয়েছে নেপালে। ভারত থেকে তাঁবু, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা সরঞ্জাম, সোলার ল্যাম্প, ওষুধের মত জরুরী সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে পাঠানো হয়েছে শুকনো খাবারের প্যাকেট।
হিমালয়ের এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ফের একবার পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশগত ঝুঁকি এবং হিমবাহ-সংক্রান্ত দুর্যোগের ভয়াবহতাকে সামনে এনে দিয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।