


নয়াদিল্লি: গত এপ্রিলে জঙ্গিদের গুলিতে ২৬ জন নিরীহ মানুষের রক্তে ভিজেছিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকা। এবার সেখানেই কেবল্ কার বা রোপওয়ে পরিষেবা চালু করতে চলেছে জম্মু ও কাশ্মীর সরকার। ইতিমধ্যেই জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনআইএ) এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দিয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। বৈসরণে জঙ্গি হামলার এখনও তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। তাই এই রোপওয়ে প্রকল্পের কাজ শুরুর আগে তাদের ছাড়পত্রের প্রয়োজন ছিল। এনআইএ’র এক আধিকারিক বলেন, ‘আমাদের কাছে রোপওয়ে প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা জানিয়েছি, তদন্তের দিক থেকে এই প্রকল্প নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’
গত ২৭ অক্টোবর জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় পহেলগাঁওয়ের বিধায়ক আলতাফ আহমেদ ওয়ানি জানান, সরকারের তরফে রোপওয়ে পরিষেবার দায়িত্ব আগেই একটি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বৈসরণ উপত্যকায় পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গি হামলার পর ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্প কোন পথে যাবে, তাও চূড়ান্ত করে ফেলেছে জম্মু ও কাশ্মীর কেবল্ কার কর্পোরেশন (জেকেসিসিসি)। মুখ্যমন্ত্রী তথা পর্যটনমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা জানিয়েছেন, এই রোপওয়ের লোয়ার টার্মিনাল পয়েন্ট হবে পহেলগাঁওয়ের যাত্রী নিবাসের কাছে। সেখান থেকেই কেবল্ কারে চড়বেন পর্যটকরা। আপার টার্মিনাল পয়েন্টটি থাকবে বৈসরণে। জেকেসিসিসি ইতিমধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সেরে ফেলেছে। কিন্তু সন্ত্রাসবাদী হামলার জেরে ওই সংস্থাটি প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজ শুরু করতে পারছিল না। জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটন দপ্তর জানিয়েছে, এই রোপওয়ে প্রকল্পের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা। ১৮ মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।