


নয়াদিল্লি, ১৩ এপ্রিল: আজ, সোমবার এসআইআর মামলার শুনানি হয় দেশের শীর্ষ আদালতে। শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে। পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচনের আগেই ফ্রিজ হয়ে গিয়েছে ভোটার তালিকা। জানানো হয়েছিল নাম বাদ যাওয়া ব্যক্তিরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তাঁরা কী আদৌ ভোট দিতে পারবেন? এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, ৬০ লক্ষেরও বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রযুক্তিগত কারণে কিছু বাকী রয়েছে। এরপরই আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, আবেদন করা ১৬ লক্ষের ভোটাধিকারের দাবি জানান। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, এর প্রশ্নই ওঠে না। আমরা এটার অনুমতি দিলে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় রয়েছে তাঁদের ভোটাধিকারও স্থগিত করতে হবে। এমন কোনও পরিস্থিতি আমরা তৈরি করতে পারি না। আমরা ট্রাইব্যুনালের উপর কোনওরকম চাপ দিতে পারি না।
পাশাপাশি এদিন আদালত জানিয়েছে, বহু সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ না যাওয়া পর্যন্ত আদালত কোনওরকম কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে না। তবে মানুষ যে দেশে জন্মেছে সেখানে ভোট দেওয়া শুধু সাংবিধানিক অধিকারই নয় বরং এটি বিশেষ আবেগ বলেও জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়া আজ ট্রাইবুনালের শুনানি দ্রুত করার আবেদন জানানো হয়। কিন্তু ট্রাইবুনালের কাজে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে আদালত। জানানো হয়, এটি কোনওরকম দোষারোপের খেলা নয়। একজন ভোটার এখানে দুই সাংবিধানিক সংস্থার মধ্যে পড়ে গিয়ে স্যান্ডউইচ হচ্ছেন। ট্রাইবুনালকে নিজেদের কাজ করতে দিন। সাপ্লিমেন্টারি তালিকার কথা আমাদের মাথায় রয়েছে। পাশাপাশি এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিচারক, জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এরপর আইনজীবীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, যাঁদের ভোটাধিকার চলে গিয়েছে বা যাঁদের নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে তাঁদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। এই বিষয়ে আদালত জানিয়েছে, ভাবার জন্য আমাদের সময় দিন। দুই পক্ষের কথাই আমাদের মাথায় রাখতে হবে। এরপর আজকের মতো মামলার শুনানি শেষ হয়।