


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংশোধিত ওয়াকফ আইনের তিনটি অংশ কার্যকর করতে পারবে না মোদি সরকার। বৃহস্পতিবার এই মর্মে সাফ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ৫ মে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত ওয়াকফ বলে ঘোষিত সম্পত্তির অবস্থাগত কোনও পরিবর্তন হবে না। তা সে আদালতের দ্বারা ঘোষিত হোক, বা বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে। দ্বিতীয়ত, জেলাশাসকও ওইসব ওয়াকফ সম্পত্তির বিবাদ-মীমাংসার নামে উদ্যোগ নিতে পারবেন না। আর তৃতীয়ত, ওয়াকফ কাউন্সিল এবং বোর্ডে কোনও নিয়োগ হবে না। নতুন আইনে কাউন্সিল এবং বোর্ডে অ-মুসলিম সদস্য নিয়োগের সংসদ-সিলমোহর লাগিয়েছে মোদি সরকার। সেই প্রক্রিয়া আপাতত কার্যকর করা যাবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
বৃহস্পতিবারও ছিল নতুন ওয়াকফ আইন সংক্রান্ত মামলার শুনানি। সমগ্র আইনের উপর যাতে স্থগিতাদেশ না হয়, তারই চেষ্টায় এদিন গোড়া থেকেই সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। বলেন, ‘আদালত কড়া সিদ্ধান্তের আভাস দিয়েছে ঠিকই। তবে আমাদের কাছে রিপোর্ট আছে যে, গ্রামের পর গ্রাম ওয়াকফ বলে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগত সম্পত্তিও ওয়াকফের নামে নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে নিরীহ নাগরিকদের একাংশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই নতুন আইনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্থগিতাদেশ হয়ে গেলে ক্ষতি হবে।’
এই বক্তব্য শুনে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনকে পাশে রেখে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না পাল্টা বলেন, ‘মানছি আইনের অনেক ভালো দিক আছে। কিন্তু এখন অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আচমকাই এই আইনের বলে ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে মানুষের অধিকার লঙ্ঘন হবে। তাই আপনার যা বলার, আগামী সাতদিনের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিন। আগামী ৫ মে পরবর্তী শুনানি হবে।’ একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াকফ কাউন্সিল বা রাজ্যের ওয়াকফ বোর্ডে কোনও নিয়োগ হবে না। এই প্রেক্ষিতে সলিসিটর জেনারেলকে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি তো কেন্দ্রের কৌঁসুলি। কাউন্সিলের বিষয়টি না হয় বলতে পারবেন। রাজ্যের বোর্ড ইস্যু নিয়েও কি বলতে পারবেন?’ জবাবে তুষার মেহতা জানান, ‘আইনটি কেন্দ্রের। ফলে আপাতত কাউন্সিল এবং বোর্ডে কোনও নিয়োগ হবে না বলেই আশ্বাস দিচ্ছি।’
আইনের বিরোধিতায় দায়ের হওয়া ৭০টি মামলার আইনজীবীরাও সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশ মেনে নেন। পরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আইনের বিরোধিতা করা আবেদনকারীদের অন্যতম আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন আইনের আরও কয়েকটি অংশ বাতিলের দাবি রয়েছে। আচমকা কোনও ওয়াকফ সম্পত্তিকে বিতর্কিত বলে কেউ অভিযোগ করলেই তা অনির্দিষ্টকালের জন্য আর ওয়াকফ বলে গণ্য হবে না। একবার অভিযোগ দায়ের হলে সেটির আর রেজিস্ট্রি হবে না। আদালতে মামলাও করা যাবে না। এই অংশটি বাতিল করার আর্জি রয়েছে। আশা করি পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়টি উঠবে।’ সিংভি আরও বলেন, ‘মোদি সরকার অহেতুক এই আইন এনেছে। এটি অসাংবিধানিক। আশা করি সুপ্রিম কোর্টও আমাদের দাবিকে মান্যতা দেবে।’