


নয়াদিল্লি: হুইলচেয়ার না মেলায় হেঁটেই দিল্লি বিমানবন্দরের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে গুরুতর জখম হলেন এক বৃদ্ধা। এরপরই এয়ার ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে অব্যবস্থা ও গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে পরিবার। ৪ মার্চ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেইমতো আগে থেকেই হুইলচেয়ার বুক করা হয়েছিল। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর কোনও হুইলচেয়ার পাননি বৃদ্ধা। অভিযোগ, ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পরও এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে কোনওরকম সাহায্য করা হয়নি। বাধ্য হয়ে হেঁটে এয়ারপোর্টের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এতেই পড়ে গিয়ে আহত হন ৮২ বছরের রাজ পাসরিচা। বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না, তা দেখতেই বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। যদিও শনিবার এইসংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, হুইলচেয়ার না দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেছেন আহত বৃদ্ধার নাতনি পারুল কানওয়ার। তিনি জানান, হুইলচেয়ার না পেয়েই হাঁটতে বাধ্য হন ঠাকুমা। এমনকী পড়ে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থার কোনও সদস্য এগিয়ে আসেননি। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বারবার আবেদন জানিয়েও সাহায্য মেলেনি। দীর্ঘক্ষণ পর একটি হুইলচেয়ার পাওয়া যায়। কিন্তু কোনওরকম চেক-আপ ছাড়াই আহত বৃদ্ধাকে বিমানে তুলে দেওয়া হয়। সেইসময় তাঁর ঠোঁট থেকে রক্ত পড়ছিল। মাথায় ও নাকে চোটও ছিল। বিমানকর্মীরা আইসপ্যাক দিয়ে পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে বেঙ্গালুরুতে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
তবে বিমান সংস্থার বক্তব্য, হুইলচেয়ার না দেওয়া ও ঘণ্টাখানেক অপেক্ষা করার কথাটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। ওইসময় প্রচুর চাহিদা থাকায় হুইলচেয়ার জোগাড় করতে মিনিট পনেরো সময় লেগেছিল। এর বেশি দেরি হয়নি। বৃদ্ধা নিজেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন এবং দুর্ভাগ্যবশত পড়ে যান। ডাক্তাররাও দ্রুত চিকিৎসাও শুরু করেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের কথা না শুনেই বেঙ্গালুরু যাওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করে দেন বৃদ্ধা।