


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগর খুন কাণ্ডে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সন্দেহ বাড়ছে পুলিসের। দেহ উদ্ধারের আগের দিন কলকাতার খিদিরপুরে এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছে শেখ নুর আলমকে। দু’জনকে একইসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় দেখতে পেয়েছে পুলিস। নুরের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিস।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের সামসাবাদ পঞ্চায়েতের কাঞ্চননগর গ্রামের বাসিন্দা শেখ নুর আলম। ২ আগস্ট নন্দীগ্রাম থেকেই কলকাতার খিদিরপুরে আসার জন্য বাসে উঠেন তিনি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নুর আলমের এক ভাই কাজ করেন কলকাতার খিদিরপুরে। তাঁর বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে। ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতেই নুর খিদিরপুর আসেন। ২-৩ আগস্ট খিদিপুরের বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের একসঙ্গে ঘুরতেও দেখা গিয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। ৪ আগস্ট ভোরে অশোকনগরে নলি কাটা অবস্থায় দেহ উদ্ধার হল নুরের। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে পুলিস জানতে পেরেছে, শ্বাসরোধ করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতেই দুষ্কৃতীরা গলার নলি কাটে। খুনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেই জোরকদমে তদন্ত শুরু করে পুলিস। ২-৩ আগস্ট নুর আলমের গতিবিধি জানতে অশোকনগর থানার পুলিসের একটা টিমকে কলকাতায় পাঠান পুলিস সুপার। তাঁর ভাই যেহেতু খিদিরপুরে কাজ করেন, তাই ওই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে। তাতে পুলিস জানতে পেয়েছে, ৩ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত নুর খিদিরপুরেই ছিলেন। তারপর তিনি কোথায় গিয়েছিলেন তা জানার জন্য ভাইকে জেরা করছে পুলিস। তাঁকে কলকাতার কোথাও খুন করা হয়েছিল, নাকি এখানেই খুন করা হয় তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পুলিস। আর তদন্তে অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে বলেই পুলিসের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের খবর। এক বা দু’দিনের মধ্যেই গোটা বিষয়টি খোলসা হয়ে যাবে বলে আশাবাদী পুলিস। বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, ২-৩ আগস্ট নিহতের লোকেশন জানার জন্য পুলিসের একটা টিম কলকাতায় গিয়েছে। কারণ খিদিরপুরে কাজ করেন নুরের ভাই। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে, ৩ আগস্ট সকালে খিদিরপুরেই ছিলেন। তারপর কি হয়েছে তা তদন্ত করা হচ্ছে।