


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানান রতুয়ার তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। ‘চাষার ব্যাটা’ দুধকুমার মণ্ডলকে কৃষিমন্ত্রী করার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর উক্তি, ‘আমি পুরোহিত, কিন্তু জোর আছে বলে কৃষিমন্ত্রী হয়ে গেলাম সেটা হয়নি।’ সেইসময় বিধানসভা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে সমরবাবু তৃণমূলের ‘প্রেশার ব্লকের’ সদস্য। ফলে শোভনদেববাবুকে কটাক্ষ করেই তাঁর এই উক্তি বলে মত রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ে নানান পুজোর পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গিয়েছে শোভনদেববাবুকে। একই সঙ্গে তিনি রয়েছেন ‘প্রেশার ব্লকের’ বাইরে। তবে শোভনদেববাবু বিষয়টি ঠিক খেয়াল করেননি বলেই জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘পুরোহিত হওয়া কি অন্যায়ের? আর আমি যখন কৃষিমন্ত্রী ছিলাম, তখন কৃষির একাধিক ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছিল রাজ্য।’
এদিন ‘ডিম থেরাপি’ নিয়েও কথা বলতে শোনা গিয়েছে সমরবাবুকে। বিজেপি বিধায়কদের তিনি বলেন, আমরা দূষিত। আপনারা পরিষ্কার। কথায় আছে হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ। আজকে যে ডিম থেরাপি চলছে, সেটা যেন কোনোদিন আপনাদের উপর না বর্ষায়। সেটা মাথায় রাখতে হবে।
রাজ্যপালের ভাষণের উপর আলোচনায় বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, ওদের (তৃণমূলের নেতাদের) ঝাড়াই পোঁছাই করলেই রাজ্যের আট লক্ষ কোটি টাকার দেন শোধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তিনি তৃণমূলের ‘দুই শিবিরের’ জন্য বিধানসভা কক্ষে আলাদা আলাদা বসার জায়গা করারও দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে, তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রের একাধিক সমস্যার কথা বলতে গিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে অটো করে ঘোরানোর কথা বলেন। তিনি বোঝাতে চান, রাস্তার যা অবস্থা তাতে অটো করে ঘুরলে, সাধারণ মানুষের মতো ফিরহাদবাবুরও কোমর ব্যথা হয়ে যাবে।