


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দিল্লিতে নৃশংস খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে নন্দীগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশ। ধৃতের নাম ওয়াসিম ওরফে লম্বু। তার বিরুদ্ধে মোট ১২৫টি কেস রয়েছে। দাগী ওই দুষ্কৃতীর বাড়ি বিহারের দ্বারভাঙা এলাকায়। সে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে থাকত। গত ১৯ জুলাই জাহাঙ্গিরপুরীতে ভোজালি দিয়ে কোপানোয় একজনের মৃত্যু হয়। ওয়াসিম সেই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত। ঘটনার পর সে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গড়চক্রবেড়িয়ায় শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। তার খোঁজে দিল্লি পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল রবিবার নন্দীগ্রাম থানায় পৌঁছে যায়। নন্দীগ্রাম থানার পুলিশের সহযোগিতায় ভোর রাতে ওয়াসিমকে নন্দীগ্রামের চৌরঙ্গি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে তার মেডিক্যাল চেকআপের পর হলদিয়া এসিজেএম কোর্টে পেশ করা হয়। সেখান থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে ধৃতকে নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় সেখানকার পুলিশ। জানা গিয়েছে, বিহারের ওই যুবক দিল্লিতেই থাকত। সেখানে নানা অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িত ছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে একজনকে ভোজালি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে চম্পট দেয় ওয়াসিম। মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশনের সূত্র ধরে ওই দুষ্কৃতী নন্দীগ্রামে রয়েছে বলে জানতে পারে দিল্লি পুলিশ। সেইমতো দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের সাব ইন্সপেক্টর অজয় কুমারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল রবিবার নন্দীগ্রাম থানায় পৌঁছে যায়। ওই থানার পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে চৌরঙ্গি থেকে ওই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়চক্রবেড়িয়ার এক যুবতীকে বিয়ে করে ওয়াসিম। খুনের ঘটনার পর গাঢাকা দিতে সে শ্বশুরবাড়িতে চলে আসে। এদিন ধৃতের দুই হাতে হাতকড়া পরিয়ে এবং কোমরে দড়ি বেঁধে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য নন্দীগ্রাম জেলা হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার হলদিয়া এসিজেএম কোর্টে পেশ করা হয়। ধৃত দুষ্কৃতীর সঙ্গে চৌরঙ্গি এলাকার কয়েকজন যুবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল। ওই যুবকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ।
নন্দীগ্রাম থানার আইসি অজয়কুমার মিশ্র বলেন, ওয়াসিম আদতে বিহারের বাসিন্দা। সে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরীতে থাকে। সেখানে একটি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত। ওই ঘটনার পর সে নন্দীগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে গাঢাকা দিয়েছিল। দিল্লি পুলিশ এসে আমাদের সহযোগিতা নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরদ্ধে ১২৫টির বেশি কেস রয়েছে।