


শ্রীনগর: জঙ্গি হামলা মানুষের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। তবে মেরুদণ্ড ভাঙতে পারেনি। বৈসরণের ঘটনা প্রসঙ্গে এই বার্তাই দিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। বিধানসভায় সোমবার তিনি বলেন, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার পর রাজ্যবাসী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। এই ঘটনা আশার আলো দেখাচ্ছে। বৈসরণের ঘটনাই একদিন জম্মু কাশ্মীর থেকে জঙ্গিদের নির্মূল করবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। ওমর এদিন বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে।’ জঙ্গি হামলা নিয়ে সোমবার জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন বসে। সেখানে শাসক-বিরোধী ঐক্যের নজির দেখল গোটা দেশ। মুখ্যমন্ত্রী যে ভাষায় হামলার নিন্দা করেছেন, তার প্রশংসা করেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ওমর যেভাবে সর্বদলীয় বৈঠক এবং স্পিকার যেভাবে বিশেষ অধিবেশন ডেকেছেন, তার প্রশংসা করেছেন বিজেপি নেতা সুনীল।
এদিন জঙ্গি হামলায় মৃতদের নাম পড়ে শোনান ওমর। এরপরেই বলেন, ‘উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম। অরুণাচল প্রদেশ থেকে গুজরাত, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে কেরল। সারা দেশ এই হামলায় বেদনা অনুভব করছে।’ তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ জঙ্গি হামলা অতীত হয়ে গিয়েছে বলে ভাবতে শুরু করেছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবার মানুষ ভাবতে শুরু করেছে, পরবর্তী হামলা কখন হবে! মৃতদের পরিবারবর্গের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন ওমর। তিনি বলেন, ‘রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে পর্যটকদের আমি স্বাগত জানিয়েছিলাম। আয়োজক হিসেবে তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও ছিল আমার। আমি পারিনি। ক্ষমা চাওয়ার ভাষা নেই।’ কাঠুয়া থেকে কুপওয়ারা, জম্মু-কাশ্মীরের সব নগর গ্রাম এই হামলার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আলাদা করে আদিল হুসেনের প্রশংসা করেন। পেশায় টাট্টু ঘোড়াচালক আদিল হুসেন পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দেন। ওমর বলেন, জঙ্গিদের বন্দুকের সামনে থেকে পালাতেই পারতেন আদিল। তাহলেও কেউ কোনও প্রশ্ন তুলত না। কিন্তু আমাদের অতিথি পর্যটকদের জন্য তিনি প্রাণ দিলেন। তবে এই কঠিন মুহূর্তে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদার দাবি তুলবেন না বলে জানিয়েছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। এ প্রসঙ্গে ওমর বলেন, অন্য কোনও সময় এই নিয়ে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে দরাদরি করবেন।