


নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের মিথ্যার বেসাতি ফের প্রকাশ্যে। পাক বিমানবাহিনীর দাবি ছিল, ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন তারা ভারতীয় বায়ুসেনার পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে। তার মধ্যে তিনটি ছিল রাফাল ফাইটার জেট। কোনও রকম প্রমাণ ছাড়াই পাকিস্তানের এই আকাশ কুসুম দাবি ভারত আগেই খারিজ করেছে। এবার ইসলামাবাদের মুখোশ খুললেন স্বয়ং রাফাল যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা দাসোর সিইও এরিক ট্রাপিয়ের। তাঁর দাবি, তিনটি নয়, ‘অপারেশন সিন্দুরে’র সময় মাত্র একটি রাফাল বিমান হারাতে হয়েছে ভারতকে। তবে শত্রুপক্ষের হামলায় নয়, বেশি উচ্চতায় প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তা ভেঙে পড়ে। রাফাল বিমান গুলি করে নামানোর যে দাবি পাকিস্তান করেছে, তা বিন্দুমাত্র সত্য নয়।
একটি ফরাসি ওয়েবসাইটকে একথা জানিয়েছেন দাসো প্রধান। ট্রাপিয়েরের দাবি, ‘অপারশেন সিন্দুরে’র সময় স্পেকট্রা ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমে শত্রুপক্ষের হামলার কোনও রেকর্ড নেই। দাসোর কাছে যে ফ্লাইট লগ এসেছে, সেখানেও যুদ্ধের কারণে ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত মেলেনি। দাসো কখনও তাদের তৈরি কোনও বিমানের ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত প্রকৃত তথ্য গোপন করে না। যদিও দিন কয়েক আগেই রাফাল ধ্বংস নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। শুধু বলেছিলেন, ‘আমরা ভারতের তরফে এমন কোনও সরকারি তথ্য পাইনি। তবে হরফ করে বলতে পারি পাকিস্তান যে দাবি করছে, তা ঠিক নয়।’ উল্লেখ্য, রাফাল বিমানের কার্যকারিতা নিয়ে বিভিন্ন দেশে চীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেতিবাচক প্রচার শুরু করেছে বলে রিপোর্ট সামনে আসছে। সেই প্রেক্ষিতে এই যুদ্ধবিমান প্রস্তুতকারী সংস্থাটির শীর্ষকর্তার মন্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
এর আগে সোমবার ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব আর কে সিংও এক সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছিলেন, পাক বিমান বাহিনীর রাফাল যুদ্ধবিমান গুলি করে নামানোর দাবি সঠিক নয়। বলা হচ্ছে, একাধিক রাফাল ধ্বংস হয়েছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে বলছি, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল। ভারতের থেকে বহুগুণ বেশি ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানের। মানব এবং সম্পদ, দুই ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের ক্ষতি অনেক বেশি। আরও বড় বিষয় হল, ‘অপারেশন সিন্দুরে’ ১০০ জঙ্গি খতম হয়েছে।