


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় বঞ্চনা। যুক্তরাষ্ট্রীয় মর্যাদার হানি। আর্থিকভাবে রাজ্যগুলিকে দমন পীড়নের প্রয়াস। তাবৎ বিরোধী শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা শনিবার নীতি আয়োগের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনেই চড়া সুরে সমালোচনা করলেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সহ দক্ষিণ ভারতের চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের দাবি কেন্দ্রীয় সরকার যেন রাজ্যকে আগামী অর্থ কমিশনের সময়সীমায় আদায় করা ট্যাক্সের ৫০ শতাংশ ভাগ প্রদান করে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এদিন নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে এই প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ট্যাক্স কাঠামোর সংশোধন করা হোক। তাঁকে সমর্থন করেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন নীতি আয়োগের বৈঠকে অভিযোগ তোলেন, কেন্দ্র রাজ্যের টাকা আটকে রাখছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতি আয়োগের বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যু উঠে আসে সোরেনের বক্তব্যে। হেমন্ত সোরেন বলেন, ১ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা বয়েক রয়েছে শুখু খনির জমি ব্যবহার বাবদ পাওনা। এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা বকেয়া। শুধু মমতা নয়, নীতি আয়োগের বৈঠকে বিরোধীদের মধ্যে গরহাজির ছিলেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং কর্ণাটকের সিদ্ধারামাইয়া ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।
তেলেঙ্গানার কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি প্রধানমন্ত্রীর সামনেই বলেন, কেন্দ্র অবশেষে জাতি গণণা মেনে নিয়েছে। ভালো কথা। কিন্তু তেলেঙ্গানায় আগেই সেই কাজ শুরু করেছে। আম আদমি পার্টির পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের অভিযোগ, পাঞ্জাবকে ইচ্ছাকৃতভাবে জল বণ্টনে বঞ্চিত করা হচ্ছে। কেন্দ্র ইচ্ছা করলেই এই সমস্যা মেটাতে পারে। অথচ সমস্যার সমাধান করছে না। এদিনের বৈঠকের এজেন্ডা ছিল বিকশিত ভারত। প্রত্যাশিতভাবেই নরেন্দ্র মোদি বিকশিত ভারতের জয়গান গেয়েছেন। বলেছেন, বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য সব রাজ্যকে কেন্দ্রের সঙ্গে হাত ধরে কাজ করতে হবে। আমরা সব রাজ্যকেই সমানভাবে সাহায্য করব। এদিনের বৈঠকে স্ট্যালিন যাওয়ায় জল্পনা শুরু হয়, এজেন্সির ভয়েই বৈঠকে হাজির হয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা স্ট্যালিন-পুত্র উদয়নিধি বলেন, ইডি বা প্রধানমন্ত্রীকে আমরা ভয় পাই না।