


নিউ ইয়র্ক: আর্টেমিস-২ অভিযানের সমাপ্তি। শনিবার প্রশান্ত মহাসাগরে নির্বিঘ্নে অবতরণ করল ওরিয়ন মহাকাশযান। ভারতের ঘড়িতে সময় তখন ভোর ৫টা ৩৭। দ্রুত পৌঁছে যায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ও মার্কিন বাহিনীর উদ্ধারকারী দল। চার মহাকাশচারীকে হেলিকপ্টারে করে নৌবাহিনীর জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সকলের মুখে তখন সাফল্যের হাসি।
গত ২ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের দেশে পাড়ি দিয়েছিল ওরিয়ন। ভিতরে ছিলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেন। ৬ এপ্রিল নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যায় মহাকাশযান। এবার নভশ্চররা চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেননি। চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন। এই অভিযানে চাঁদের উলটো পিঠও দেখেছেন নভোচারীরা। আগে কোনো মানুষের চোখ সরাসরি তা দেখার সুযোগ পায়নি। চার নভশ্চরকে নিয়ে চাঁদকে অতিক্রম করে বেশ কিছুটা এগিয়ে যায় ওরিয়ন। পৃথিবী থেকে সেই দূরত্ব প্রায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭১ কিমি। আজ পর্যন্ত মহাকাশে পাঠানো কোনো মানব অভিযান এতটা পথ অতিক্রম করেনি। সেদিক থেকে দেখলে অ্যাপোলো-১৩ অভিযানের রেকর্ড ভাঙল আর্টেমিস-২। চাঁদে অবতরণ না করে এভাবেই নজির গড়ল করল নাসা।
তারপর প্রিয় গ্রহে ফিরে আসার প্রক্রিয়াটাও মোটেও সহজ ছিল না। তীব্র তাপমাত্রা ও ঘর্ষণের কারণে বহুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মহাকাশযান। প্রাণ হারিয়েছেন কল্পনা চাওলা সহ একাধিক নভশ্চর। এহেন অবস্থায় অভিযানের এই রুদ্ধশ্বাস অবতরণ পর্বের দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ওরিয়নের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০ হাজার কিমি। চারপাশে তাপমাত্রা তখন প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ সূর্যের তাপমাত্রার প্রায় অর্ধেক। একটা সময় ছ’মিনিটের জন্য গ্লোভারদের সঙ্গে কমান্ড সেন্টারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়া শেষে ধীরে ধীরে খুলে যায় ক্রু ক্যাপসুলের প্যারাশুট। সেই প্যারাশুটের সাহায্যে গতি কমিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর উপকূলে অবতরণ করে ওরিয়ন। উদ্ধারকাজের জন্য শুরু থেকেই উপস্থিত ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস জন পি মার্থা। সঙ্গে ছিল যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের বিশাল স্কোয়াড্রন। ১৯৭২ সালে শেষবার চন্দ্রভিযানে গিয়েছিল মানুষ। সৌজন্যে নাসার অ্যাপোলো ১৭। ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ অভিযানের মাধ্যমে ফের চাঁদে মানুষ পাঠাতে চায় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। তার আগে সেখানকার পরিস্থিতি দেখে এল ওরিয়ন। পৃথিবীতে অবতরণের পর নভশ্চর ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কচ।