


করাচি, ২৬ এপ্রিল: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। বিগত কয়েকবছরের মধ্যে উপত্যকায় এত বড় হামলা দেখেনি দেশবাসী। আর সেই হামলার দায় ইতিমধ্যেই স্বীকার করেছে টিআরএফ। এই জঙ্গি সংগঠন পাক মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তোইবারই হাতে তৈরি। তাই পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার দায় গিয়ে পড়েছে পাকিস্তানের উপর। সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ এই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সমস্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে ভারত। নয়াদিল্লির তরফে নেওয়া হয়েছে একাধিক পদক্ষেপ। সেই সকল ঘটনার মাঝেই এবার মুখ খুললেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বললেন, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রস্তুত রয়েছে পাকিস্তান।
পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ভারতের যে কোনও কৌশল ঠেকাতেও প্রস্তুত রয়েছে ইসলামাবাদ। আজ, শনিবার খাইবার পাখতুনখোয়ার কাকুলে সেনা অ্যাকাডেমির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলগাঁওয়ের ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ফের একবার আমাদের দোষারোপ করা হচ্ছে। যা অবশ্যই বন্ধ হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাই পাকিস্তান যে কোনও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তে যোগ দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের কাছে শান্তি সবার আগে। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আমরা আপোস করব না। পাকিস্তান সবসময়েই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। আমাদের সেনা দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ ও সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।’ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যই এখন চর্চার বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পহেলগাঁও ইস্যু নিয়ে পদক্ষেপ করায় নড়েচড়ে বসেছে ইসলামাবাদ। তাই এখন নিরপেক্ষ তদন্ত চাইছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এর আগে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ আগেই বলেছেন, ‘ভারত সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং নিজেদের গোয়েন্দা ব্যর্থতা ঢাকতে পাকিস্তানের উপর দোষ চাপাচ্ছে। ওরা কোনও প্রমাণ, কোনও তদন্ত ছাড়াই আমাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে। আমরা এই বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক স্তরের তদন্ত চাই।’