


আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
চীন দেশের পানজিন অঞ্চলটি সমুদ্র সংলগ্ন। আর এই অঞ্চলেই রয়েছে এক অদ্ভুত সি বিচ। সাধারণভাবে সমুদ্রতটের কথা চিন্তা করলে তোমাদের চোখের সামনে কেমন দৃশ্য ভেসে ওঠে? সোনালি বালির গায়ের ফেনিল জল এসে ধাক্কা খাচ্ছে। অথবা পাথুরে তটের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ভেঙে যাচ্ছে অজস্র ঢেউ। কিন্তু এখানে তেমন কিছুই হয় না। এই বিচটি সে দিক দিয়ে একবারেই আলাদা। ভিন্ন এখানকার বালির রং। এখানকার সমুদ্র সৈকত লাল বালিতে ভরা। অবাক লাগছে তো? ভাবছ তাও কী করে সম্ভব? এই সমুদ্রের পাড়ের রং লাল। তার গায়ে যখন সাগরের জল এসে লাগে তখন সেই লাল রং ভিজে গিয়ে একেবারেই ভিন্ন রূপ নেয়। অসাধারণ সেই লাল তটের সৌন্দর্য। সাগর জলে স্নান করে তটের উপরের লাল বালি চকচক করে ওঠে। এক বিচিত্র চেহারা নেয় এই সি বিচ। এছাড়াও বিভিন্ন পরিযায়ী পাখিও আড্ডা জমায় এই সাগর তটে। মনোরম সকালে পাখির ডাকে ভরে ওঠে চারপাশ। সন্ধে ঘনিয়ে এলে পাখিরা যে যার মতো বাসায় ফিরে যায়। তটের লাল রং রাতের অন্ধকারে কালচে রূপ নেয়।
এতক্ষণ পড়ার পর তোমরা নিশ্চয়ই আশ্চর্য হচ্ছো। মনে প্রশ্ন জাগছে, বালির রং সোনালি না হোক সাদা হবে, লাল রঙের বালি আবার কবে থেকে হল! তাহলে বলি শোনো, এই সমুদ্রের তীরে বালির ভাগ খুবই কম। বরং মাটির ভাগই বেশি। আর সেই মাটিতেই এক ধরনের সামুদ্রিক আগাছার জন্ম। নাম সুয়েডা। লালচে-গোলাপি রঙের এই আগাছাগুলো এমনই এক চেহারা ধারণ করেছে যে, সমুদ্রের তটটা একেবারেই লালচে রঙের হয়ে উঠেছে। এই আগাছাগুলো সংরক্ষণ করার জন্য চীনের সরকার এই সৈকতের সর্বত্র পর্যটকদের যাওয়ার
অনুমতি দেয় না। একটা কাঠের সাঁকো তৈরি করে মাত্র খানিকটা অংশই পর্যটকদের জন্য খোলা রাখা হয়েছে। তবু চীনের লাল সি বিচ পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।