


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: গত ডিসেম্বরের শেষে রেলের যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি করেছিল মোদি সরকার। আবারও কি বৃদ্ধি পেতে চলেছে রেলের ভাড়া? প্রশ্ন উঠছে, কারণ পরোক্ষে এসংক্রান্ত সুপারিশ করেছে বিজেপি সাংসদ সি এম রমেশের নেতৃত্বাধীন রেল সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবারই সংসদে ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে রেলের ‘ডিমান্ডস ফর গ্রান্টস’ সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সেই রিপোর্টে রেলের আয় নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওই কমিটি। অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানানো হয়েছে, যাত্রী ভাড়া থেকে রাজস্ব আদায় এবং পরিচালনগত খরচের মধ্যে ফারাক কমানো আশু প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ‘ফেয়ার ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থার পথে হাঁটা যেতে পারে। রেলের পরিভাষায় এই ‘ফেয়ার ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থার অর্থই হল, যাত্রী ভাড়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা। পাশাপাশি সংসদীয়কমিটি সুপারিশ করেছে, চিহ্নিত রুটগুলিতে আরও বেশি করে ট্রেনের প্রিমিয়াম পরিষেবা চালু করা যেতে পারে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট করে বেশি ভাড়ার ট্রেন সার্ভিস প্রদানের পক্ষেই সওয়াল করেছে ওই কমিটি।
১০০ টাকা আয়ে রেলের ক্রমবর্ধমান খরচের (অপারেটিং রেশিও) পরিমাণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টে। বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ আর্থিক বছর থেকে ১০০ টাকা আয়ে রেলের খরচের পরিমাণ সবসময়ই ৯৮ টাকার বেশি থাকছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে রেলের সার্বিক আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট হয়েছিল ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে সেই লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। একইভাবে ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে মনে করা হয়েছিল যে, আয় হবে ৩ হাজার ৪১ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত প্রস্তাবে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রেলের সামগ্রিক আয় তিন হাজার কোটি টাকা ছোঁবে বলে আপাতত ধরা হয়েছে। এহেন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতেই আয় এবং ব্যয়ের ফারাক কমানোর সুপারিশ করেছে রেল সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। রিপোর্টে অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণভাবে কমিটি উল্লেখ করেছে যে, ট্রেনের যাত্রী পরিষেবা একটি সামাজিক দায়বদ্ধতা। এক্ষেত্রে গড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দিচ্ছে রেল। এরই পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত এবং গ্রামীণ এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান নয়, এমন একাধিক রুটেও ট্রেন চালাতে হচ্ছে। তবে ‘ফেয়ার ম্যানেজমেন্ট’ ব্যবস্থার সুপারিশের পাশাপাশিই কমিটি তার রিপোর্টে এও উল্লেখ করেছে যে, এর ফলে আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া যাত্রীদের (ভালনারেবল গ্রুপ) যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তাও দেখতে হবে। একইসঙ্গে নন-ফেয়ার রেভিনিউয়ের নিত্যনতুন বন্দোবস্তও খতিয়ে দেখতে বলেছে কমিটি।