


নয়াদিল্লি: ভেঙে পড়া মার্কিন ফাইটার জেটের পাইলট কোথায়? ইরানের হামলার পর কেটে গিয়েছে একটা দিন। কিন্তু খোঁজ মেলেনি ওই পাইলটের। তাঁর সন্ধানে হন্যে হয়ে অভিযান শুরু করেছে আমেরিকা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সাফল্য অধরা। বরং উদ্ধার অভিযানে সামিল দুটি মার্কিন কপ্টারকে ইরানের হামলার মুখে পড়তে হয়। যার জেরে থমকে গিয়েছে অভিযান। বিমান ভেঙে পড়ার কথা মানলেও পাইলট নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি ‘সংবেদনশীল’ বলে এড়িয়ে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনায় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ‘যুদ্ধ এখনও চলছে। আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্তা জানান, বিমানটি ভেঙে পড়েছে নাকি সেটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। ওই পাইলটের কী হয়েছে, তাও অজানা।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। ওইদিন নিজেদের দেশের আকাশসীমায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এতে এ১০ মডেলের একটি বিমান ভেঙে পড়লেও পাইলট নিরাপদ জায়গায় নামতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমেদ প্রদেশে ভেঙে পড়ে একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান। দুই আসনের ওই যুদ্ধবিমানগুলিতে সামনে থাকেন মূল পাইলট। পিছনে থাকেন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী। একজন পাইলটকে উদ্ধার করতে পারলেও অন্যজন কোনো অজ্ঞাত স্থানে প্যারাসুটের সাহায্যে নেমেছেন বলে জানা যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে তেহরান দাবি করেছিল, ওই পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে জানা যায়, ওই পাইলটের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইরানের স্থানীয় প্রশাসনও। বিভিন্ন ভিডিয়োতে ভেঙে পড়া এফ-১৫ এর ধ্বংংসাবশেষ দেখা গিয়েছে। দেশবাসীর কাছে তেহরানের বার্তা, পাইলটের সন্ধান পাওয়া গেলে তাঁর সঙ্গে যেন খারাপ ব্যবহার করা না হয়। বরং তাঁকে জীবিত অবস্থায় পুলিশের হাতে দিলে মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছেন ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমেদ প্রদেশের গভর্নর। ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধে এই প্রথম কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের মাটিতে ভেঙে পড়ল।
বিষয়টি নিয়ে আমেরিকাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তিনি বলেন, ‘ইরানকে টানা ৩৭ বার পরাজিত করার পর, ওদের কৌশলহীন যুদ্ধ এখন ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’-এর লক্ষ্য থেকে সরে হয়েছে, ‘কেউ কি আমাদের পাইলটদের খুঁজে দিতে পারবেন? প্লিজ?’ পাকিস্তানে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘আপনাদের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের থেকে ইরানের হেপাজতে বেশি সুরক্ষিত। আমেরিকার উদ্ধারকারী দলের খুঁজে পাওয়ার থেকে ওঁর ইরানে বন্দি থাকা ভালো।’