


তাপস ঘোষ, বহরমপুর; এবার পুজোয় উদ্যোক্তা ও ভক্তদের জন্য সুখবর। সন্ধিপুজো কিংবা অষ্টমীর অঞ্জলিতে অভাব হবে না পদ্মফুলের। আর বাজারে বেশি যোগান থাকলে দাম থাকবে পকেট সমঝে। এককথায়, পদ্ম মিলবে সস্তায়। এমনটাই দাবি পদ্মচাষি থেকে শুরু করে ফুল বিক্রেতাদের।
কিন্তু, পদ্মের দর এমন নিম্নমুখী হওয়ার কারণ কী? চাষিরা বলছেন, এবার বেশ কয়েকদিন ধরে নাগাড়ে বৃষ্টি পদ্মচাষে অনুকুল পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রায় প্রতিটি জলাশয়ে ভালোই পদ্মফুল হচ্ছে। বাজারে প্রচুর পদ্ম আমদানি শুরু হয়ে গিয়েছে। বিক্রেতারা ইতিমধ্যে হিমঘরে পদ্ম মজুত করতে শুরু করে দিয়েছেন। ফলে একদিকে উৎপাদন বৃদ্ধি, অন্যদিকে, হিমঘরে মজুত পদ্ম বাজারে এলে দাম তলানিতে ঠেকবে। বিক্রেতাদের দাবি, বিশ্বকর্মা পুজোয় বহরমপুরের বাজারে দু’টাকা থেকে আড়াই টাকা দামে পদ্ম বিক্রি হয়েছে। দুর্গা পুজোয় সেই দাম পাঁচ থেকে সাত টাকার মধ্যে থাকতে পারে। তবে, পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশের আশঙ্কা, বহুবার দেখা গিয়েছে বাজারে প্রচুর পদ্ম আমদানি হয়েছে। অথচ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কালোবাজারি করায় চড়া দামে পদ্ম কিনতে হয়েছে। এই কালোবাজারি না হলে পুজোর ফুলের দাম থাকবে নাগালের মধ্যে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় কান্দি, বড়ঞা, খড়গ্রাম, নবগ্রাম, সাগরদিঘি, শক্তিপুরে প্রচুর পদ্ম চাষ হয়। অনেকে নিজের পুকুরে, কেউ কেউ পুকুর লিজ নিয়ে পদ্ম চাষ করেন। পদ্মচাষি অবিরাম হালদার বলছিলেন, ‘এখন সারা বছরই পদ্মফুলের বিশাল চাহিদা। ফলে, মাছ চাষ অপেক্ষা পদ্মচাষ লাভজনক হয়েছে। দুর্গা পুজোর স্থানীয় বাজার ছাড়া কলকাতা ফুল পাঠিয়ে ব্যাপক আয় হয়। এবার পদ্মফুলের উৎপাদন খুব ভালো।’
গড় বৃষ্টিপাতের হার পদ্মচাষের পক্ষে খুবই উপযোগী। এবার গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ভালো। পুকুর, দিঘি শুকিয়ে যাওয়ার মতো খরাও হয়নি। এমন অনুকূল আবহাওয়াই পদ্ম পাতা আর পদ্ম ফুলের বাড়তি উৎপাদনে সহায়ক ভূমিকা নিয়েছে। বহরমপুর শহরের ফুল বিক্রেতা সতন ঘোষ বলেন, ‘এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রোজ পদ্ম যায়। পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পদ্মের চাহিদা বেড়েছে। তবে, এবার জোগানের অভাব নেই।’ ফুল বিক্রেতা রাজু কৈবর্ত্য বলেন, ‘এবার সারা বছর পদ্মের দাম পিস প্রতি পাঁচ টাকার বেশি ওঠেনি। আশা করছি, পুজোয় ৫-৬ টাকা প্রতি পিস হিসেবে দাম থাকবে। এখন যাঁরা অর্ডার দিচ্ছেন তাঁদের ১০৮ পদ্মের মালা ৩০০-৩৫০ টাকায় দিচ্ছি।’ অসাধু বিক্রেতাদের কালোবাজারির আতঙ্কে অনেকে পুজো উদ্যোক্তারা পদ্মের দামের হেরফেরের আশঙ্কা করছেন। বহরমপুর শহরের পুজো উদ্যোক্তা রাজীব শীল বলেন, ‘পদ্মের কালোবাজারি না হলে এবার খুব সস্তায় পদ্ম মিলবে। এখনও পর্যন্ত সেই আশাই করছি।’