


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শেষ কবে রাস্তা সংস্কার হয়েছে, মনে করতে পারছেন না কেউ। জায়গায় জায়গায় গর্ত, পিচ উঠে গিয়েছে। শহরের দক্ষিণ-পূর্ব তল্লাটে রুবি সংলগ্ন আনন্দপুর এলাকার হাসপাতাল রোডের এমনই বেহাল দশা। সেই ভাঙাচোরা পথেই যাতায়াত করতে হয় রোগী, রোগীর পরিবার-পরিজন এবং চিকিৎসকদের। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ দানা বেঁধেছে।
ওই চত্বরে রুবি হাসপাতাল ছাড়াও রয়েছে অন্য একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতাল। এই পথে রয়েছে পাসপোর্ট অফিসও। এহেন ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গোটা রাস্তার হাল কিছু জায়গায় রীতিমতো ভয়াবহ। অভিযোগ, গত কয়েক বছরে রাস্তার সার্বিক সংস্কার হয়নি। দফায় দফায় প্যাচওয়ার্ক হয়েছে মাত্র। কিন্তু বৃষ্টিতে সেই জোড়াতাপ্পি যে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। ফলে জায়গায় জায়গায় তৈরি হয়েছে বড়োসড়ো গর্ত। গাড়িতে যাতায়াত করলে তীব্র ঝাঁকুনি সহ্য করতে হয়। সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কথায়, ‘রাস্তাটার অবস্থা বরাবর খারাপ। গাড়ি চালালে মনে হয় রোলার কোস্টার। কোমর ব্যথা হয়ে যায়। এমন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিনের পর দিন বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে, কারও নজর নেই।’
রুবি হাসপাতালের ঠিক পিছন থেকে সোজা এই রাস্তাটি চলে গিয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি পাড়া রয়েছে। অভিযোগ, একটা সময় এই অঞ্চলের বাসিন্দারা তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিত না বলে সেভাবে রাস্তার সংস্কার হয়নি। মাঝেমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের থেকে অভিযোগ পেলে প্যাচওয়ার্ক করে দেওয়া হত। কিন্তু পালাবদলের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও রাস্তার হাল বদলায়নি। শহরজুড়ে পুজোর আগে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় জোড়াতাপ্পি পড়লেও আনন্দপুর অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কঙ্কালসার দশার হাল ফেরেনি। রোজ এই পথে পাসপোর্ট অফিসে আসেন বহু মানুষ। তাঁদেরও হাঁটাচলা করতে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠেছে। সেই সঙ্গে দোসর ভাঙা রাস্তার ধুলো। কলকাতা পুরসভার সড়ক বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, শহরের অনেক জায়গাতেই রাস্তা মেরামত হয়েছে। ওখানে যদি কাজ না হয়ে থাকে, দ্রুত তা করা হবে। নিজস্ব চিত্র