


ওয়াশিংটন: তাঁর ঔদ্ধত্য নিয়ে বহুদিন ধরেই সরব বিরোধীরা। জনতার মধ্যেও ছড়াচ্ছিল ক্ষোভের সংক্রমণ। তারই ফল মিলল হাতেনাতে। বুধবার আমেরিকায় মিড টার্ম ইলেকশনে (বলা ভালো, জনপ্রিয়তার পরীক্ষা) ডাহা ফেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলাফলের প্রবণতা বলছে, ১০০ সেনেট আসনে ৫৪টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে। রিপাবলিকান ঝুলিতে ৪৪টি। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসেও ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ২৩১টিতে জয় পাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ১৩৯ আসন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে ট্রাম্পের দলকে। ইতিমধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণ্ডি পার করেছে ডেমোক্র্যাটরা। মার্কিন কংগ্রেসে এবার তাদেরই রাজ। তবে রিপাবলিকানদের মেয়াদ এখনও বাকি বছর দুই। অগত্যা নখ-দন্তহীন বাঘ হয়েই পড়ে থাকবেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের কথায়, কাউকে পাত্তা না দিয়ে ইরানে হামলা, ভেনেজুয়েলা দখল, পান থেকে চুন খসলেই ভারত সহ একাধিক দেশের উপর শুল্ক চাপানোর মতো একতরফা সিদ্ধান্তই ডোবাল ট্রাম্পকে।
হারের খবরে একদিকে যেমন মার্কিন মুলুক জুড়ে উচ্ছ্বাসের ছবি দেখা যাচ্ছে। তেমনই আক্রমণ শানাচ্ছেন বিরোধীরা। প্রথম সারিতে অবশ্যই প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তাঁর কথায়, ‘বিভাজনের রাজনীতির ফাঁদ থেকে বেরিয়ে এসেছেন আমেরিকাবাসী। সাধারণ মানুষ এমন নেতা চায়, যে তাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে। এই জয় তারই ইঙ্গিত।’ ‘বন্ধু’ ট্রাম্পের হারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেসও। তবে বিপাকে পড়েও মাথা নোয়াতে নারাজ ধনকুবের প্রেসিডেন্ট। এদিন তিনি বলেন, ‘ব্যালটে আমার নাম ছিল না। যদি থাকত, তা হলে বিপুল ভোটে জিততাম।’ পরাজয় স্বীকার করে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও বারবার নিজের ‘ভেটো’ ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। কোনো বিলের ক্ষেত্রে ভেটো প্রয়োগ করে তিনি যে বেঁকে বসতে পারেন, ঘুরিয়ে সেই হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স অবশ্য এই হারের দায় ইরান যুদ্ধের উপর চাপিয়েছেন। পরে দুপুরের দিকে ট্রাম্পও সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ভান্সের মন্তব্যকেই সমর্থন করেন।
ট্রাম্প বিরোধী হাওয়া কতটা ছিল, ভোটের ফলই তার প্রমাণ। কানসাসে ৯৪ বছরের হারের অভিশাপ ঘুচিয়ে সেনেট সিটে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। ১৯৯৪ সাল থেকে রিপাবলিকানদের গড় টেক্সাসে জিতেছে ডেমোক্র্যাটরা। সেনেটর হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। কেইশা বটমস, দেব হালান্ডের মতো মহিলা থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু প্রার্থী, এমনকি সমকামী হিসাবে প্রথমবার মার্কিন মসনদে জায়গা করে নিয়েছেন ক্রিস পাপ্পাসও।
সুহাস সুব্রহ্মণ্যম, প্রমিলা জয়পাল, অমি বেরা, রো খান্না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে দাপট দেখিয়েছেন ডেমোক্র্যাট ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকরাও। প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসে জায়গা পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া দান্ডিয়া। এই জয় ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে স্বস্তি পেতে পারে ভারত। প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি, এমনকি এইচ-১বি ভিসা নিয়ে ট্রাম্পের ‘খামখেয়ালিপনা’তেও রাশ টানতে পারে এই জয়।