


তাসখন্দ, ৩০ আগস্ট: আজ, রবিবার উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান ওলি দারাজালি দোস্তলিক সম্মানে ভূষিত করা হল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। এর পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে হল দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিও। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের স্বীকৃতিস্বরূপই মোদিকে এই বিশেষ সম্মান প্রদান বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভ মোদির হাতের সম্মান তুলে দেন। এই সম্মান পাওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, দোস্তলিক শব্দের মানে বন্ধুত্ব। আমাদের দেশের মানুষজনও দোস্ত শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। এই সম্মান পাওয়া ব্যক্তিগত গৌরবের বিষয় অবশ্যই। কিন্তু এই স্বীকৃতি শুধুমাত্র কোনও একজনের নয়। এটি দেশের ১৪০ কোটি মানুষের। সে দেশের প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি মোদি বলেন, এই সম্মানকে তিনি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং ঐতিহ্যের নামে উৎসর্গ করলেন। এই সম্মান বড় দায়িত্ব স্থাপন করল। যা আগামীদিনে দুই দেশের বন্ধুত্বকে দীর্ঘস্থায়ী এবং অটুট রাখতে সাহায্য করবে। জানিয়েছেন, তাসখন্দে প্রবাসী ভারতীয়দের অভ্যর্থনাতেও আমি অভিভূত। তাঁরা ভারত-উজবেকিস্তানের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করে চলেছেন। এর ফলে দুই দেশের বন্ধুত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
এদিন উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই দেশ ইউরেনিয়াম সরবরাহের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। উভয় পক্ষ তিনটি ‘সিস্টার-সিটি’ ও ‘সিস্টার-স্টেট’ চুক্তি চূড়ান্ত করছে। সেটির পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করা উচিত। এই ইউরেনিয়াম চুক্তি দেশের পারমাণবিক শক্তি বাড়াতে একটি বড়সড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল সাউথ বা বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলির ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর ভারত ও উজবেকিস্তান জুটি। যারা আগামীদিনেও একসঙ্গে কাজ করবে।
প্রসঙ্গত, দুদিনের সফরে উজবেকিস্তানে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মূলত দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, ডিজিটালাইজেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানা গিয়েছিল। এছাড়া ভারত-উজবেকিস্তানের সম্পর্ক আরও মজবুত করাও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। সে দেশের সফর শেষ করে তাসখন্দ থেকে কিরঘিজস্তানের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।