


নয়াদিল্লি, ২ এপ্রিল: রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির ডেপুটি লিডারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল রাঘব চাড্ডাকে। ২০২৩ সাল থেকে এই পদে ছিলেন তিনি। শুধু পদচ্যুতই নয়, আপের বরাদ্দ সময় থেকে রাঘবকে বক্তব্য রাখার সুযোগ না দেওয়ার কথাও জানা গিয়েছে। যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। এরপর থেকেই আপ পার্টির অন্দরে গোলমাল রয়েছে বলে ইতিউতি গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, রাঘবের বদলে ডেপুটি লিডার করা হতে পারে পাঞ্জাবের সাংসদ অশোক মিত্তলকে। বিষয়টি না কী রাজ্যসভার সচিবালয়ে অনুষ্ঠানিকভাবে জানানোও হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে কী এবার রাঘব বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন? তবে বিষয়টিতে আপ নেতৃত্ব বা রাঘবের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি।
সম্প্রতি সংসদে আমজনতার নানা ইস্যু তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ জনপ্রিয় হয়েছেন আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা। গিগ কর্মীদের অধিকার নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি টেলিকম সংস্থাগুলির রিচার্জ ইস্যুতেও তোপ দেগেছেন তিনি। তার বেশ কয়েকটিতে কেন্দ্রীয় সরকার পদক্ষেপও গ্রহণ করেছে। এর ফলে চাড্ডার জনপ্রিয়তাও আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পর থেকেই দলের সঙ্গে রাঘবের দূরত্ব দেখা দেয় বলে জানা যাচ্ছে। আসন্ন গুজরাত এবং পাঞ্জাবের নির্বাচনে আপের হয়ে সক্রিয় ভূমিকায় দেখাই যায়নি তাঁকে। এরপর থেকেই মনে করা হয় তিনি গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়িয়েছেন। এরপর আজকের ডেপুটি লিডারের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সেই ইঙ্গিতকেই আরও জোরালো করল বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।
উল্লেখ্য, আম আদমি পার্টির হাত ধরেই রাজনীতিতে পা রাখেন রাঘব। ২০১২ সালে দিল্লি লোকপাল বিলে কেজরিওয়ালের সঙ্গে কাজও করেন। এরপরই তাঁকে দলের জাতীয় মুখপাত্র করা হয়। ২০১৫ সালে দিল্লি নির্বাচনে জয়ী হন। সবচেয়ে কমবয়সী ট্রেজারার পদে আসীন হন তিনি। ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজেন্দ্রনগর আসন থেকে জয়ী হন। দিল্লি জল বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানও করা হয় তাঁকে। শেষে ২০২২ সালে রাজ্যসভার কনিষ্ঠতম সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন।