


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: শহর ও শহরতলির লোকাল ট্রেনে ৭ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। টু টিয়ার এসি ক্লাসে ৫৬০ কোটি টাকা। স্লিপার শ্রেণিতে ১৭ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। সেকেন্ড ক্লাসে ১৬ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। শুধু এই ক্ষেত্রগুলিতেই অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে রেল। শুধুমাত্র ২০২২-২৩ আর্থিক বছরেই রেলের এমন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির ছবি উঠে এসেছে ক্যাগ রিপোর্টে। আর তাতে আলোড়ন পড়েছে মোদি সরকারের অন্দরেই। এক্ষেত্রে রেলমন্ত্রককে বিশেষভাবে ভরসা জোগাচ্ছে শুধুমাত্র ট্রেনের থ্রি টিয়ার এসি ক্লাস। ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে এই একটিমাত্র শ্রেণিতেই কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখেছে রেল বোর্ড।
রিপোর্টে যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে লাভ-ক্ষতির হিসেব সংক্রান্ত মোট পাঁচ অর্থবর্ষের হিসেব দিয়েছে ক্যাগ। এক্ষেত্রে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ থেকে ২০২২-২৩ আর্থিক বছর পর্যন্ত সময়সীমা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই সময়সীমার মধ্যে একমাত্র এসি থ্রি টিয়ার শ্রেণি ছাড়া অন্য কোনও ক্লাসেই লাভের মুখ দেখেনি রেল। এমনকী এসি থ্রি টিয়ারেও ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ আর্থিক বছরে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে এসি চেয়ার কারে সামান্য হলেও লাভের মুখ দেখেছে রেল। বাকি প্রায় সবেতেই শুধুই ক্ষতি। লোকাল ট্রেন পরিষেবা অথবা ইএমইউ সাবার্বান সার্ভিসেসের ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির রেখচিত্র ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী।
২০১৮-১৯ অর্থবর্ষ থেকে ২০২১-২২ আর্থিক বছর পর্যন্ত লোকাল ট্রেন চালিয়ে রেলের ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরিমাণ হল যথাক্রমে ৬ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। স্লিপার ক্লাসের ক্ষেত্রে এটি হয়েছে ১৩ হাজার ১১ কোটি টাকা থেকে ২০ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী পরিবহণ খাতে কত খরচ হচ্ছে, রেলকে তা বিশ্লেষণ করে দেখতে বলেছে ক্যাগ। পাশাপাশি ক্যাগ সুপারিশ করেছে, যাত্রী পরিবহণের ফলে রেলের কত আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তারও সঠিক মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হোক।