


বেঙ্গালুরু: বেঙ্গালুরুর হাম্পিতে রাতের আকাশের সৌন্দর্য চাক্ষুস করতে ডেরা বেঁধেছিলেন স্থানীয় একটি হোমস্টেতে। গিটারে সুর তুলে তুঙ্গভদ্রার তীরে রাত্রিযাপনের পরিকল্পনা করেছিলেন দেশ-বিদেশের চার পর্যটক। সঙ্গে ছিলেন হোমস্টের মালকিনও। কাল হল সেই সিদ্ধান্তই! হঠাৎই সেখানে এসে হাজির হয় তিন যুবক। তাদের দাবি মতো ১০০ টাকা না দেওয়ায় ইজরায়েলি মহিলা পর্যটক ও হোম স্টের মালকিনকে গণধর্ষণ করল ওই দুষ্কৃতীরা। ধাক্কা দিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয় ওই দুই মহিলার সঙ্গী তিন পুরুষ পর্যটককে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিস অভিযুক্তদের চিহ্নিত করেছে। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাদের হদিশ পেতে ছ’টি টিম তৈরি করেছে প্রশাসন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিনার সেরে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ সানাপুর হ্রদের কাছে তুঙ্গভদ্রা ক্যানালের পাশে গিয়ে বসেন দুই বিদেশি সহ চার পর্যটক। দুই বিদেশির মধ্যে একজন ইজরায়েলি মহিলা। অন্যজন মার্কিন যুবক। অন্য দুই পুরুষ পর্যটকের মধ্যে একজন ওড়িশা ও অন্যজন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন হোমস্টের মালকিনও। ক্যানালের পাশে বসে তাঁরা গিটার বাজিয়ে গান-বাজনা করছিলেন। হোমস্টের মালকিনের অভিযোগ, আচমকাই তিন যুবক বাইকে এসে পেট্রলের খোঁজ করতে থাকে। কাছাকাছি কোনও পাম্প নেই বলে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই অভিযুক্তরা ১০০ টাকা দাবি করে। এফআইআরে অভিযোগকারী জানিয়েছেন, ওই তিন অপরিচিত যুবককে তিনি কোনও টাকা দিতে চাননি। কিন্তু, তারা চাপাচাপি করায় প্রথমে ২০ টাকা দেন। এরপরই তারা ঝামেলা শুরু করে। পাথর দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়। তাতেও বাড়তি টাকা না দেওয়ায় অভিযুক্তরা হোমস্টের মালকিন ও ইজরায়েলি মহিলাকে ব্যাপক মারধর করে তারা। তাঁকে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণও করে দুষ্কৃতীরা। হোমস্টের মালকিনকেও গণধর্ষণ করা হয়। তাঁর দু’টি মোবাইল ও সাড়ে ন’হাজার টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালায় অভিযুক্তরা। তার আগে তিন পুরুষ সঙ্গীকে ধাক্কা মেরে খালে ঠেলে দেওয়া হয়। পুলিস সূত্রে খবর, ওই তিনজনের মধ্যে দু’জন জখম হয়েছিলেন। একজনের খোঁজ মিলছিল না। শুক্রবার রাতে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই তিন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে গঙ্গাবতী রুরাল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর ঝাড়খণ্ডের দুমকায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন স্পেনের এক পর্যটক। তারপর কর্ণাটকের এই ঘটনায় তীব্র
চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।