


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ফের একবার গরিব মানুষের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা! সেইরকমই উদ্যোগ নিল মোদি সরকার। কারণ, এবার বিনামূল্যের রেশন পেতে আর কেবল কার্ড দেখালেই চলবে না। থাকতে হবে ফুড কুপন। কিছুটা গিফট কুপনের আকারে। মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে আসবে ডিজিটাল কারেন্সি। যার পোশাকি নাম, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি (সিবিডিসি) বা ই-রুপি। সেটি দেখিয়েই রেশন দোকান থেকে এবার থেকে নিতে হবে চাল-গম। এমনই ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে কেন্দ্র। আগামী কাল, রবিবার গুজরাত থেকে এই প্রকল্প শুরু হচ্ছে। তারপর ধীরে ধীরে চালু হবে অন্য রাজ্যেও। কেবল জনরোষের ভয়ে ভোটের মুখে বাংলাকে হয়তো ছাড় দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিধানসভা ভোটের পর এই ই-রুপির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে রেশন ব্যবস্থা কার্যকরের পরিকল্পনা খাদ্যমন্ত্রকের। কিন্তু মোদি সরকারের এই ‘ডিজিটাল’ চমক নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইতিমধ্যে। কারণ, যেসব গরিব রেশন গ্রাহকের মোবাইলই নেই, তাঁরা কীভাবে রেশনের খাদ্যদ্রব্য পাবেন, তা নিয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি মন্ত্রক।
বিষয়টি ঠিক কী? মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সিবিডিসি ব্যবস্থায় গ্রাহককে মাসে দুটি ই-রুপি দেওয়া হবে। পরিবারের প্রধানের মোবাইলে আসবে সেটি। রেশন দোকানে গিয়ে সেই কুপন দেখাতে হবে। আধার নাম্বারের সঙ্গে সেটি মিললে গ্রাহকের মোবাইলে আসবে ওটিপি। অথবা মেলানো হবে বায়োমেট্রিকের সঙ্গে। তবেই ওই কুপন কাজ করবে। আর ওই কুপন কাজ করলে তবেই কমিশন পাবেন রেশন দোকানদাররা। গুজরাতে রবিবার এই ব্যবস্থার সূচনা করবেন অমিত শাহ। গণবণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি সঠিক ব্যক্তিই বিনামূল্যের খাদ্যশস্য পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ বলেই খাদ্যমন্ত্রকের মত।
তবে শুধু রেশন গ্রাহকরা নন, বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে ডিলাররাও। তাঁদের প্রশ্ন, মোবাইলে আসা ই-রুপির নামে ফুড কুপন কি যে কোনো রেশন দোকানেই দেখিয়ে খাদ্যশস্য নিতে পারবেন গ্রাহকরা? তা যদি হয় তাহলে দোকানদারদের উপার্জন অনিশ্চিয়তার মুখে পড়বে। তাই এই উদ্যোগের কথা জানতে পেরেই তড়িঘড়ি দিল্লি এসে বিষয়টির বিরোধিতা করেছেন অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু। খাদ্যমন্ত্রককে তিনি প্রতিবাদের আকারে জানিয়েছেন, জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের অধিকারে এভাবে রেশন দেওয়ার কথা বলা নেই। তাই ই-রুপি ব্যবস্থা ভবিষ্যতে রেশনে খাদ্যশস্যর পরিবর্তে ডায়রেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের প্রথম পদক্ষেপ নয় তো? এই ব্যবস্থা চালু হলে চাল-গমের পরিবর্তে গ্রাহক টাকা পাবেন। সেই টাকায় গ্রাহক রেশনই নেবেন, সেই গ্যারান্টি কোথায়? ঠিক যা হয়েছে পুদুচেরিতে। সেখানে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ডিবিটি চালু করায় ধীরে ধীরে রেশন দোকানের সংখ্যা কমছে। তাই বিশ্বম্ভরবাবুর চ্যালেঞ্জ, ‘কোনোভাবেই বাংলায় এটা চালু হতে দেব না।’