


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্বয়ং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর নিউইয়র্কে দাঁড়িয়ে ভারতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সাফ জানিয়েছেন, জ্বালানি এবং সারের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সর্বাগ্রে সমস্যা তৈরি হবে খাদ্য উৎপাদনে। একইভাবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খাদ্য ও জ্বালানি নিয়ে সতর্কবার্তা শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি কে মিশ্র। বুধবার রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রাও জানিয়ে দিলেন, মূল্যবৃদ্ধির হার যে এত বাড়ছে, তার কারণ খাদ্যের মূল্য। আগামী দিনেও খাদ্যের মূল্যই সবথেকে বেশি বাড়বে। সরকার পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ এবং অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সম্যকভাবে অবহিত সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরের পক্ষ থেকে যেখানে বলা হচ্ছে খাদ্যশস্যের সম্ভাব্য সংকটের কথা, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গলায় উলটো সুর। সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী গলায়, খাদ্যসংকটের সম্ভাবনার কোনো উল্লেখ না করে মোদি বললেন, ‘গত ১০ বছর ধরে ফসল উৎপাদনে রেকর্ড হচ্ছে। এমন রেকর্ড স্বাধীনতার পর থেকে দেখা যায়নি।’ এমনকি ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে ভিনদেশের উদাহরণও টেনে এনেছেন তিনি। বুধবার সেবা জ্যোতি সংকল্প কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, ‘আমাদের নীতি এবং সুশাসনের কারণেই কৃষি উৎপাদন, ফসল ফলনের এই উচ্চতা স্পর্শ করা সম্ভব হয়েছে। যে সব দেশ খাদ্যশস্যের উৎপাদনের জন্যই বিখ্যাত, তাদের কৃষি উৎপাদনের বৃদ্ধিহারকেও গত ১০ বছরে পিছনে ফেলে দিয়েছে ভারত।
এদিনের অনুষ্ঠানটির উপলক্ষ্য ছিল প্রশাসনের প্রধান হিসাবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর ধরে সর্বোচ্চ পদে বিরাজমান থাকা। অর্থাৎ প্রথমে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। তারপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেই মঞ্চে মোদি সাফ বলেছেন, ‘আমি যখন যেখানে থেকেছি, মানুষ সেবক হিসাবে বাছাই করেছে। আমাকে যারা সাধুবাদ জানায়, তাদের থেকেও আমি শিক্ষাগ্রহণ করি। যাঁরা আমার কঠোর সমালোচনা করে, তাঁদের কাছেও শিক্ষাগ্রহণ করে ভুলত্রুটি সংশোধনের চেষ্টা করি।’ মোদির এই ২৫ বছরের প্রশাসনিক সফরকে কেন্দ্র করে এদিন তাঁর জন্মস্থান গুজরাতের ভাদনগরেও বড়োসড়ো অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে হাজির ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদির জন্যই এবার বাংলায় আমাদের জয় হয়েছে। আর মোদিজি বাংলাকে রক্ষা করলেন ধ্বংস হওয়া থেকে। আমার প্রতি ঈশ্বরের অশেষ কৃপা যে, আমি বিজেপির অঙ্গীভূত হয়ে মোদিজির আশীর্বাদ পেয়েছি।’ মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক সফরকে সাধুবাদ জানিয়ে সেরা বিবৃতি অবশ্য দু’জনের। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, ‘ভারতের উন্নয়নে ঈশ্বর পাঠিয়েছেন নরেন্দ্র মোদিকে।’ আর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সাক্ষাৎ বিষ্ণুর অবতার!’