


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বৃহস্পতিবার রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারির উপস্থিতিতে অভিযান চালালেন বিজেপি কর্মীরা। বাগুইআটিতে তালা ভেঙে প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির কার্যালয়ে ঢুকে প্রচুর ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করেন তাঁরা। একইসঙ্গে কনজারভেন্সি বিভাগের একটি গোডাউন থেকে সরকারি জিনিসপত্র এবং ধারাল হাঁসুয়া উদ্ধার করেন। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবরাজ চক্রবর্তী ঘনিষ্ট বলে পরিচিত। এই ঘটনায় শোরগোল ছড়িয়েছে। বিধায়ক তরুণজ্যোতির দাবি, তাঁকে খুন করার চক্রান্ত করে ফেলেছিল তৃণমূল। না জিতলে ৪ তারিখের পরই খুন করা হত। লোকও ঠিক করা হয়ে গিয়েছিল।
এদিন প্রথমে বাগুইআটি ৪৪ নম্বর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন অদিতিদেবীর কার্যালয়টিতে যান বিজেপি কর্মীরা। সেখানে বিদায়ী মেয়র পারিষদ তথা তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীও বসতেন। তরুণজ্যোতির সামনেই বিজেপি কর্মীরা হাতুড়ি দিয়ে গেটের তালা ভাঙেন। তারপর ভিতরে ঢোকেন। সঙ্গে পুলিশকর্মীও ছিল। ভিতরে নানা জিনিসপত্র ছিল। পোশাক হাতে তুলে বিজেপি কর্মীরা দেখান এইগুলি সরকারি ত্রাণসামগ্রী। কাউকে বিলি না করে মজুত রাখা হয়েছিল। সাদা থানও পাওয়া গিয়েছে। আলমারির ভিতরে হুইস্কির গ্লাস আছে বলে দেখান বিধায়ক।
সেখান থেকে কর্মীরা বিধাননগর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কনজারভেন্সি গোডাউনে যান। সেখানে একইভাবে ব্লিচিং পাউডার, ত্রিপল, বর্জ্য পদার্থ পৃথকীকরণের বালতি সহ একাধিক জিনিস পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে ধারাল হাঁসুয়া এবং একাধিক লাঠি উদ্ধার হয়। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনে তৃণমূল জিতলে তাঁদের উপরে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাই এইগুলি মজুত করা হয়েছিল। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলার ইন্দ্রনাথ বাগুই দেবরাজ চক্রবর্তী ঘনিষ্ট বলেই পরিচিত। পরে দেবরাজ ঘনিষ্ট আরও এক কাউন্সিলারের ওয়ার্ডে গিয়ে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করে বিজেপি কর্মীরা। বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলার ইন্দ্রনাথ বাগুই বলেন, আমার ওয়ার্ডের ওই গোডাউনটি পুরসভার কনজারভেন্সি গোডাউন। গাছ কাটা-জঞ্জাল সাফাইয়ের জন্য হাঁসুয়া, পুরসভার বালতি সহ বিভিন্ন সামগ্রী থাকত। এছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই। এলাকার বাসিন্দারা ওই কনজারভেন্সি গোডাউনটি চেনেন।