


সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: সল্টলেকে রোমা ঝাওয়ার অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত গুঞ্জন ঘোষ জামিন পেলেন। ২০০৫ সালের এই অপহরণ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে জামিন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং এন কে সিং এই জামিন দিয়েছেন।রাজ্যের কারাদপ্তর সূত্রের খবর, বর্তমানে বালুরঘাট সেন্ট্রাল জেলে বন্দি রয়েছেন গুঞ্জন ঘোষ। অন্যদিকে, রোমা বিবাহ সূত্রে দীর্ঘদিন যাবৎ মুম্বইয়ের বাসিন্দা। তবে ওই অপহরণ মামলায় জামিন পেলেও সম্ভবত এখনই জেল থেকে ছাড়া পাবেন না গুঞ্জন। কারণ, তিনটি খুনের মামলাতেও সাজা খাটছেন গুঞ্জন।
সময়টা ২০০৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সকালের ঘটনা। প্রাইভেট গাড়িতে চেপে কলেজ যাচ্ছিলেন রোমা। সল্টলেকের সিবি-৬৮ ঠিকানার বাড়ি থেকে মেরেকেটে ৫০ মিটার দূরে পৌঁছেছেন। তখন মাথায় রিভালভার ঠেকিয়ে তাঁকে গাড়িতে তোলা হয়। সেই রোমহর্ষক অপহরণের পর ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে রোমার বাড়িতে ফোন করে অপহরণকারী দলটি। এরপর মোবাইল ট্যাপ করে ফুলবাগান থানা এলাকায় একটি গ্যারাজ থেকে রোমাকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় একে একে গ্রেপ্তার করা হয় গুঞ্জন এবং সংশ্লিষ্ট সকল দুষ্কৃতীকে। এই মামলার তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, মুক্তিপণের টাকা বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সঙ্গী অরবিন্দ ভাইকে খুন করে বসেন গুঞ্জন। এছাড়া আরও দুটি খুনের মামলায় সাজা খাটছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এই অপহরণ মামলাতেই ২০০৮ সালে বারাসত আদালতের প্রধান দায়রা বিচারক তাঁকে যাবজ্জীবন সাজা শোনান। তারপর থেকেই তিনি জেলে রয়েছেন। ২০১৬ সালে হাইকোর্ট এই সাজা বহাল রাখে। তারপর থেকেই রোমা ঝাওয়ার অপহরণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত গুঞ্জন ঘোষ একটানা ২১ বছর জেলে রয়েছেন। মূলত, এই যুক্তিকে সামনে রেখেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে চলতি বছরে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেন গুঞ্জনের আইনজীবী এস রাজনারায়ণ, অর্জুন হেগড়ে এবং নীলম সিং। এদিকে, গুঞ্জন জামিন পাওয়ার পর তাঁর মা কৃষ্ণা ঘোষের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘প্লিজ, কিছু লিখবেন না। ২২ বছর ধরে আমি একা লড়াই করছি। প্লিজ।’