


নিজস্ব প্রতিনিধি, হলদিয়া: আগের দিনই কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর ‘আশীর্বাদ’ নিয়েছিলেন। রাত পোহাতেই শুক্রবার হলদিয়া এসডিও অফিসে হাজির হয়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নিলেন নন্দীগ্রাম বিধানসভার মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে বেলা সোয়া ১১টা নাগাদ এসিডিও অফিসের পিছনের দরজা দিয়ে দোতলায় রিটার্নিং অফিসার উদয়শঙ্কর মাইতির কাছে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করার চিঠি জমা দেন তিনি। পৌনে ১২টা নাগাদ আবারও পিছনের দরজা দিয়েই বেরিয়ে গাড়িতে উঠে অফিস ছাড়েন। বেলা গড়াতেই প্রার্থীপদ প্রত্যাহার সংক্রান্ত সেই নথি প্রকাশ্যে আসে। ভোটের আগেই লড়াই থেকে পিছু হটল মমতা তৃণমূল। এদিন বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করে নন্দীগ্রাম আসনে ‘সিস্টার পার্টি’ কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশ্চর্যের বিষয় হল, এরপরই ‘উধাও’ হয়ে যান কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের দাবি, বিকালে নন্দীগ্রাম থেকে তাঁদের প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ। সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা শুভাশিস ভট্টাচার্যকেও। প্রার্থী গ্রেপ্তারের খবর ‘চাউর’ হতে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা খোঁজ নিতে যান চণ্ডীপুর ও নন্দীগ্রাম থানায়, কিন্তু কোথাও মিলনবাবুর খাঁজ মেলেনি। সুইচড অফ থাকায় যোগাযোগ করা যায়ুন তাঁর মোবাইলে। জেলার পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, মিলনবাবু গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, তা ‘ভেরিভাই’ করে দেখা হচ্ছে। আজ, শনিবার প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষদিনে আরও বেশ কিছু ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবারই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার সকাল ১১টায় মমতা তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসের দুই প্রার্থীকে রিটার্নিং অফিসারের অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। সেইমতো হাজির হন ঋতব্রতদের প্রার্থী মহম্মদ এতেসামুল হক। সওয়া ১১টা নাগাদ পৌঁছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন সঞ্চিতা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নের দিন সঞ্চিতার সঙ্গে নন্দীগ্রামের পরিচিত তৃণমূল নেতাদের কাউকে দেখা যায়নি। নেতৃত্বের মধ্যে শুধুমাত্র অখিল গিরি ছিলেন। শুক্রবার অখিলবাবু বলেন, কীভাবে এমনটা হল বুঝতে পারছি না। এদিন হলদিয়া এসডিও অফিসে দাঁড়িয়ে ঋতব্রত তৃণমূলের প্রার্থী এতেসামুল হক বলেন, আমরা ‘খাম’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। এবার থেকে লড়াইয়ের ময়দানে পুরোদমে নেমে পড়লাম। নন্দীগ্রামবাসীর কাছে আমার আবেদন, ৬অক্টোবর আমাকে নির্বাচিত করুন। আমি নন্দীগ্রামের সর্বত্র লড়াই করব। সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরব।
সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করার ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১০। এরমধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, বিজেপির হাসিরানী রথ, সিপিআইয়ের শান্তিগোপাল গিরি, কংগ্রেসের মিলন প্রধান এবং ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী এতেসামুল হক। তবে আজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর শুভেন্দুর গড়ের ভোটযুদ্ধে ক’জন বিরোধী ময়দানে থাকেন, এখন সেটাই দেখার।