


রিয়াধ: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সারা বিশ্বে জ্বালানি তেল সরবরাহে এমনিতেই অচলাবস্থা চলছে। এবার সেই অচলাবস্থা বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিল। সৌজন্যে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট অয়েল পাইপ লাইন বন্ধের সিদ্ধান্ত। বৃহস্পতিবার সকালে দেশের রাজধানী শহর রিয়াধ এবং পবিত্র মদিনা শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইস্ট-ওয়েস্ট অয়েল পাইপ লাইন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে শুক্রবার তেলের এই গুরুত্বপূর্ণ পাইপ লাইন সাময়িকভাবে বন্ধের কথা ঘোষণা করেছে সৌদি আরব সরকার। এর জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও বাড়ল। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনা এখনও ফলপ্রসু হয়নি। অশোধিত তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। বুধবারই ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল প্রতি দাম ১০০ ডলার পার করে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট অয়েল পাইপ লাইন বন্ধের সিদ্ধান্ত মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসাবে কাজ করবে।
শুক্রবার সৌদির জ্বালানি মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘রিয়াধ এবং মদিনার মধ্য দিয়ে যাওয়া ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ১০ সেপ্টেম্বর বেশ কয়েকটি হামলা হয়েছে। তাই এই পাইপ লাইন বন্ধ করা হল। হামলায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।’ কে বা কারা এই হামলা করেছে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে উপগ্রহ চিত্রে দক্ষিণ মদিনার পাইপ লাইন যাওয়া এলাকা থেকে কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গিয়েছে। ইরান সমর্থিত হুথি জঙ্গিরা ইয়েমেনে শক্তি বাড়াচ্ছে। লোহিত সাগরের একটা বড় অংশ এই জঙ্গিদের কবলে।
সেই ১৯৮০ সাল থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ইস্ট-ওয়েস্ট অয়েল পাইপ লাইন। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার পাইপ লাইনই বিশ্বকে জ্বালানি তেল সরবরাহের বিকল্প পথ দেখিয়েছে। প্রতিদিন এই লাইন দিয়ে ৪০ থেকে ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির ৪ থেকে ৫ শতাংশ আসে এই পাইপ লাইন পথে।