


বেঙ্গালুরু: কর্ণাটক কংগ্রেসে টানাপোড়েন তীব্র আকার ধারণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সিদ্ধারামাইয়াকে সরিয়ে ডি কে শিবকুমারকে বসানোর দাবি উঠেছে দলের অন্দরেই। বিষয়টি আঁচ করে আগেভাগেই সিদ্ধারামাইয়া জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমিই পূর্ণ সময়ের জন্য মুখ্যমন্ত্রী থাকছি।’ এই অবস্থায় দলীয় অন্তর্কলহ থামাতে এগিয়ে এলেন স্বয়ং উপ মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার। বুধবার তিনি জানান, সিদ্ধারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন করে সহকারী হিসেবে থাকতে তাঁর আপত্তি নেই। তবে নিজের অসন্তোষের কথাও গোপন করেননি। দৃশ্যতই ‘হতাশ’ শিবকুমার বলেন, ‘আমার কাছে আর বিকল্প কি রয়েছে? সিদ্ধারামাইয়াকে সমর্থন করতেই হবে আমাকে। এতে আমার কোনও আপত্তি নেই। হাইকমান্ড যা চাইবে, তাই হবে।’
২০২৩ সালে কর্ণাটকে কংগ্রেস ক্ষমতার আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়। হাইকমান্ডের স্নেহধন্য প্রবীণ নেতা সিদ্ধারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়। তবে কর্ণাটকের অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন ছিল দলের রাজ্য সভাপতি শিবকুমারের দিকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রিত্বের পাঁচ বছরের মেয়াদ আধাআধি করে ভাগের রফায় শিবকুমারকে শান্ত করে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে সরকারিভাবে কংগ্রেস কখনওই সেকথা স্বীকার করেনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে আড়াই বছর শেষ হওয়ার মুখেই আবার শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি তুলতে শুরু করেছেন অনুগামীরা। সোমবার রামনগরের বিধায়ক এইচ এ ইকবাল বলেন, ‘শিবকুমারের অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী হওয়া উচিত।’ তার বিরোধিতায় নিজেই পাঁচ বছর মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন বলে জানিয়ে দেন সিদ্ধারামাইয়া। আতান্তরে পড়ে ইকবালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে বাধ্য হয়েছেন শিবকুমার। তবে এতকিছু করেও দলীয় অন্তর্কলহ চাপা দেওয়া যাচ্ছে না। গত তিনদিন ধরে দলের বিধায়ক এবং নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন কংগ্রেসের পক্ষে কর্ণাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা।