


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মোবাইলের মতোই এবার বিদ্যুতের মিটার রিডিং ব্যবস্থায় জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। স্মার্ট মিটার। যেখানে রয়েছে প্রিপেইড এবং পোস্টপেইড ব্যবস্থা। অর্থাৎ আগে থেকে রিচার্জ করিয়ে রাখলে মিলবে বিদ্যুৎ সরবরাহ। টাকা ফুরিয়ে গেলে ঝপ করে সংযোগ বন্ধ হবে না ঠিকই। তবে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তারই সঙ্গে সিংহভাগ গ্রাহকের অভিযোগ, স্মার্ট মিটারে বিল আসছে ব্যাপক। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এ নিয়ে প্রবল বিক্ষোভও হচ্ছে। সবমিলিয়ে অস্বস্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার ।
এমতাবস্থায় মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ‘বর্তমানে’র এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর বলেন, কারও ওপরে স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া হবে না। তবে তাদের বোঝানো হচ্ছে যে, স্মার্ট মিটারে চুরির সম্ভাবনা নেই। বাড়তি বিল আসার তো কোনও প্রশ্নই নেই। কোনও কোনও ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল কিছু কারণে বিল এদিক ওদিক হতে পারে। কিন্তু আদতে স্মার্ট মিটার ভালো। সন্দেহ থাকলে সাধারণ মিটার লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিতে পারেন। মন্ত্রী জানান, ২০২১ সালে স্মার্ট মিটার লাগানোর প্রকল্প ঘোষণা হয়েছে। কাজ শুরু হয়েছে দু বছর পর। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে গে দেশে স্মার্ট মিটার লাগানোর টার্গেট নেওয়া হলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। সময়সীমা বাড়ানো হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প। বিজেপি শাসিত সব রাজ্যে কি স্মার্ট মিটার লেগে গিয়েছে? জানতে চাওয়ায় মনোহরলাল খট্টর বলেন, ১০০ শতাশ হয়নি। তবে যারা করছে না বা দেরি করছে, তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। অন্য প্রকল্পের সুবিধা আটকে দেওয়া হবে বলে ‘ভয়’ দেখানো হচ্ছে। ঘটনা হল, বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অধীন ‘ন্যাশনাল স্মার্ট গ্রিড মিশনে’র তথ্যই বলছে, বিজেপি শাসিত সিংহভাগ রাজ্যেই স্মার্ট মিটারের কাজ এগচ্ছে শম্বুক গতিতে। স্বয়ং মোদির রাজ্য গুজরাতেই স্মার্ট মিটার লেগেছে মাত্র ৯.৫৯ শতাংশ। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী তথা হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের রাজ্যে অবশ্য পারফরমেন্স ভালো। ৮৪.৭ শতাংশ। মধ্যপ্রদেশে সাড়ে ১৭ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশে ১১.২ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে ২.৩ শতাংশ।
মন্ত্রকের তথ্য বলছে, গোটা দেশে ২২ কোটি স্মার্ট মিটার লাগানোর টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হয়েছে ৩ কোটি ১৪ লক্ষ। মন্ত্রী বলেন, স্মার্ট মিটার লাগালে প্রি পেইডের ক্ষেত্রে শুরুতে মিটার প্রতি ৯০০ টাকা এবং পোস্ট পেইডের ক্ষেত্রে ৬০০ টাকা ছাড় দেওয়া হবে। তবে আবারও বলছি, স্মার্ট মিটার কারও ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হবে না।