


নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর: রাজধানীতে নারী নিরাপত্তা ও সাম্প্রতিক ধর্ষণ মামলার প্রেক্ষিতে আজ দিল্লি পুলিশকে তাঁদের কর্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মহিলাদের ওপর যৌন অপরাধ প্রতিরোধে অপরাধীদের মনে মারাত্মক ভয় সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে শীর্ষ আদালত। অপরাধীদের মনে যতক্ষণ না আতঙ্কের সৃষ্টি হবে অর্থাৎ মৃত্যুভয় তৈরি হচ্ছে ততক্ষণ এই ধরনের অপরাধ সমূলে নির্মূল করা যাবে না।
সম্প্রতি জোড়া গণধর্ষণের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল রাজধানী দিল্লি। একটি ঘটনায় স্লিপার বাসে গণধর্ষণের শিকার হয় এক নাবালিকা। অন্য ঘটনায় দিল্লির বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ২ কিলোমিটার দূরের একটি নিকটবর্তী পার্কে ঘটে নাবালিকার গণধর্ষণের ঘটনা। আজ, দুটি ঘটনারই পর্যালোচনা করেন বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাগুলিতে দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতি। তিনি জানান, ‘এই অপরাধীদের ব্যাপারে লোকজন আপনাদের সতর্ক করেছিল, কিন্তু আপনারা সেই বিষয়ের গুরুত্ব দেননি। আপনারা কিভাবে এই অপরাধ বন্ধ করবেন? আমরা নিশ্চিত করতে চাই এই অপরাধ সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হোক।’
বিভিন্ন কলেজ ক্যাম্পাসে যে সমস্ত গুণ্ডারা আছে, খাবারের দোকানে অসামাজিক লোকেরা জড়ো হয়, মদ্যপানের আসর জমায় সেই সব জায়গা খতিয়ে দেখে এবং জাতীয় ডেটাবেস থেকে যৌন অপরাধীদের শনাক্ত করে সন্দেহভাজনদের একটা তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এদিন বিচারপতি পারদিওয়ালা ২০১২ সালের নির্ভয়া মামলার কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, ‘সেই মামলার দোষীরাও এই বর্বর অপরাধটি করার আগে মদ্যপান করেছিল।’ বিচারপতির কড়া নির্দেশ, আগামী ৪ সপ্তাহে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে। এই বিষয়গুলি নিয়ে দিল্লি পুলিশের আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নারী নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশকে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।