


নয়াদিল্লি: দিন কয়েক আগে একটি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে তুলোধোনা করেছিল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্টেও দুটি পৃথক মামলায় তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। দেশের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাটি ক্রমশ সব সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ইডির কার্যকলাপকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চেষ্টা বলেও ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি রাজনৈতিক লড়াইয়ে কেন নিজেদের ব্যবহৃত হতে দিচ্ছে,সেই প্রশ্নও তোলে আদালত।
কর্ণাটকের মুডা জমি দুর্নীতি মামলার মামলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার স্ত্রী বি এম পার্বতীর নাম জড়িয়েছে। পার্বতীর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপের মামলাও শুরু করতে চেয়েছিল ইডি। এদিন সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এর আগে কর্ণাটক হাইকোর্টেও ইডির আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। কিন্তু পার্বতীর পাশাপাশি কর্ণাটকের নগরোন্নয়নমন্ত্রী বাইরাতি সুরেশের বিরুদ্ধেও আর্থিক তছরূপের মামলা শুরুর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি গাভাই বলেন, ‘আপনারা ভালো করেই জানেন নিম্ন আদালতের নির্দেশ হাইকোর্ট বহাল রেখেছে। রাজনৈতিক লড়াই দলগুলিকেই লড়তে দিন। আপনারা কেন নিজেদের এই লড়াইয়ে ব্যবহৃত হতে দিচ্ছেন?’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘মহারাষ্ট্রে ইডির বিষয়ে আমারও কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদের কিছু বলতে বাধ্য করবেন না।’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন সিদ্ধারামাইয়া। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের গালে বিচারব্যবস্থা সজোরে থাপ্পড় মেরেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে সবসময় সংবিধানের সামনে নতজানু থেকেছি। সুপ্রিম কোর্টের রায় সেই আস্থাকেই রক্ষা করেছে।’ রাজনৈতিকভাবে এঁটে উঠতে না পেরে বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে তাঁকে হেনস্তা করতে চাইছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে, বিভিন্ন মামলায় আইনি পরামর্শ দেওয়ার কারণে শীর্ষ আইনজীবীদের ডেকে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল ইডির বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা শুরু করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মামলাতেও কেন্দ্রীয় এজেন্সিটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘আইনজীবীরা যদি ভুল পরামর্শও দিয়ে থাকেন, তাহলেও কীভাবে তাঁদের ডেকে পাঠানো যায়? ইডির তরফে সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা পাল্টা দাবি করেন, এজেন্সির নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। যদিও সেই দাবি মানতে চাননি প্রধান বিচারপতি। এরপরই তিনি জানান, ইডি সব সীমা ছাড়িয়ে যেতে চাইছে। আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও বলা হয়, ইডির কার্যকলাপে তাঁদের পেশা নিয়ে আতঙ্ক বাড়ছে। আগামী সপ্তাহে ফের এই মামলা নিয়ে শুনানি।