


তেহরান ও ওয়াশিংটন: মধ্য ভারত মহাসাগরের বুকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ। সেখানের বৃহত্তম দ্বীপ ‘দিয়েগো গার্সিয়া’ তাক করে এবার জোড়া মিসাইল ছুড়ল ইরান! কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আপাত নির্জন এই দ্বীপেই রয়েছে ব্রিটিশ-মার্কিন সেনাঘাঁটি। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান থেকে ধেয়ে আসা এই দুটি ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইলের একটিও শেষ পর্যন্ত দিয়েগো গার্সিয়ায় আঘাত হানতে পারেনি। তবে তেহরানের এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র আমেরিকার রক্তচাপ বহুগুণ বাড়িয়েছে। কারণ, এতদিন ইরানের ঘোষিত মিসাইল ভাণ্ডারের সর্বোচ্চ পাল্লা ছিল ২ হাজার কিলোমিটার। কিন্তু যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে তারাই দ্বিগুণ অর্থাৎ ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের ব্রিটিশ-মার্কিন সেনাঘঁটিতে আঘাত হানার চেষ্টা করল। এই ঘটনা ইরানের সামরিক শক্তি সম্পর্কে পুরানো সব ধ্যান-ধারণা ওলটপালট করে দিচ্ছে।
মূলত চীন ও ইরানের মতো ‘শত্রু’ শিবিরকে ‘শায়েস্তা’ করতে যাতে কালবিলম্ব না হয়, সেজন্যই ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়ায় সব ধরনের যুদ্ধাস্ত্র, সামরিক রসদ ও সেনা মজুত রাখে আমেরিকা। দ্বিগুণ পাল্লার নয়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রমাণ করছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সামরিক ঘাঁটিও এখন ইরানের নাগালে। এর ফলে একইভাবে তেহরানের নাগালে চলে আসবে দক্ষিণ ইউরোপও। স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে আমেরিকার। ঘটনাচক্রে, ভারত মহাসাগরে ইতিমধ্যেই ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজকে টর্পেডো হামলায় ধ্বংস করেছে আমেরিকা। নিহত বহু ইরানি নাবিক। এবার সেই ভারত মহাসাগরেই ব্রিটিশ-মার্কিন সেনাঘাঁটিতে আঘাতের চেষ্টা করল তেহরান। ফলে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এই প্রবণতা ভারতের জন্যও অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট বলছে, ইরানের দুটি মিসাইলের মধ্যে একটি মাঝ আকাশে নিজে থেকেই ধ্বংস হয়ে যায়। দ্বিতীয়টিকে লক্ষ্য করে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া হয়েছিল এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টার। তবে সেই ইন্টারসেপ্টার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রকে আঘাত করতে পেরেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কখন এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টার ছোড়া হয়েছিল, সেই সময়ও প্রকাশ করা হয়নি। সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু দশক ধরে নির্বিঘ্নে থাকা দিয়েগো গার্সিয়াতেও এবার চলতি যুদ্ধে অ্যান্টি মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম চালু করতে বাধ্য হবে আমরিকা।