


পাটনা: মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে রাজ্যসভার সদস্য হতে চলেছেন নীতীশ কুমার। এই ঘটনায় নীতীশের দলের শরিক বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, বিজেপিই নীতীশকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নীতীশের দল জেডিইউ-র অন্দরের অসন্তোষও সামনে চলে এসেছে। বৃহস্পতিবার পাটনায় দলের সদরদপ্তরে ভাঙচুর চালায় দলের কর্মী-সমর্থকরা। বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের দাবি, নীতীশকে সরিয়ে জনমতের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। একই সুরে বিজেপিকে নিশানা করেছে কংগ্রেসও। আরজেডি নেতা তেজস্বী বলেন, ‘মহারাষ্ট্রের পুনরাবৃত্তি হল বিহারে। ভোটের আগেই আমরা বলেছিলাম, নীতীশ বেশিদিন মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। বাস্তবে সেটাই হল।’ আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপি দলিত ও ওবিসিদের বিরুদ্ধে। ওরা চায় না শীর্ষপদে কোনও নীচু জাতির লোক থাকুক। ওরা রবার স্ট্যাম্প মুখ্যমন্ত্রী চায়, যিনি বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের কথায় চলবে।’ অন্যদিকে আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকার অপহরণের প্রসঙ্গ তুলে খোঁচা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মাদুরোর মতোই বিহারের মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মতিক্রমে অপহরণ করা হয়েছে। ওরা জানত নীতীশকে ডিমোট করা যাবে না। তাই তাঁকে দেশি মাদুরো বানিয়েছেন।’ নীতীশকে রাজ্যসভায় পাঠানো ‘জনতার রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও। অন্যদিকে নীতীশের মনোনয়ন পেশের দিন ক্ষোভ উগরে দিলেন জেডিইউ-র কর্মী-সমর্থকরা। পার্টি অফিসের বাইরে চলে বিক্ষোভ। অফিসের অন্দরেও ভাঙচুর চলে। অন্যদিকে জমায়েত করা হয় নীতীশের বাসভবনের বাইরেও। এক জেডিইউ কর্মী ক্ষোভ উগরে বলেন, আমরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে নীতীশের নামে ভোট চেয়েছি। গতকাল খবর জানার পর থেকে হোলি খেলা হয়নি।