


পক্ষে
শুভম রায়চৌধুরী
বাঙালি তার অতীত ঐতিহ্য বেচে চললেও তা বাঁচিয়ে রাখার তাগিদ হারিয়ে ফেলছে। যার স্পষ্ট উদাহরণ, আজ কোণঠাসা ট্রানজিস্টার রেডিও। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনীর মূল অর্থ না বুঝে নতুন প্রজন্ম একে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার ক্যাপশন বা স্ট্যাটাসের মাধ্যম বানিয়েছে। এজন্য তাদের দোষ দেওয়া যায় না। কারণ সমাজ ও মা-বাবারা এই ঐতিহ্যের বীজ বপন করতে ব্যর্থ।
কলেজ ছাত্র
অনিমেষ দাস
মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের চণ্ডীপাঠ ও পঙ্কজ মল্লিকের সুরারোপিত মহিষাসুরমর্দিনী ছাড়া বাঙালির দুর্গাপূজার সূচনা কল্পনাই করা যায় না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে আকাশবাণীর সেই ঐতিহ্যবাহী রেডিও শোনার অভ্যাসে ভাটা পড়েছে। ভোরে ঘুম ভেঙে রেডিওর নব ঘোরানোর রোমাঞ্চের জায়গা নিয়েছে ইউটিউব, স্পটিফাই বা পডকাস্টের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।
সহ শিক্ষক'
সুহৃদ জানা
মহালয়ার ভোর মানেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী, চণ্ডীপাঠ এবং আগমনি গান। এটা নস্টালজিয়া। কিন্তু সময় বদলেছে। পালটেছে নতুন প্রজন্মের জীবনযাত্রা। ফলে ভোরবেলা রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার অভ্যাস কমেছে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও অসংখ্য বিনোদনের মাঝে নতুন প্রজন্মের কাছে মহালয়ার গুরুত্ব থাকলেও, রেডিওর মহিষাসুরমর্দিনী অগ্রাধিকার পায় না।
সহকারী শিক্ষক
আদিত্য রজক
আজকের প্রতিযোগিতামূলক ব্যস্ত জীবন এবং আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমরা বাঙালিরা নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছি। বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে নতুন প্রজন্মের কাছে মহালয়ার ভোরের সেই চিরাচরিত আবেগ আজ প্রায় মূল্যহীন। অথচ মহিষাসুরমর্দিনী না শুনলে পুজোর আসল আমেজটাই আসে না, যা এই প্রজন্মকে বোঝানোর মতো কেউ নেই। অভিভাবকরাও আর ভোরবেলায় উঠে চণ্ডীপাঠ শোনার জন্য কাউকে সচেতন বা বাধ্য করছেন না।
ছাত্র
বিপক্ষে
সলিল কুমার দে
এই যুগে প্রায় কোনো বাড়িতেই রেডিওর প্রচলন না থাকলেও নব প্রজন্ম অন্যান্য শ্রুতিমাধ্যমে রেডিওর মহিষাসুরমর্দিনী শুনতে ভীষণভাবে পছন্দ করে বলেই আমার স্থির বিশ্বাস। আমাদের মতো আবেগ নতুন প্রজন্মের মধ্যে না থাকলেও ওরা বুদ্ধিমান। তাই ওদের ‘হীরে’ চিনতে ভুল হয় না। বিদেশে বসবাসরত বাঙালিও পুজোর সময় চিরনতুন ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নিজে শোনেন, অন্যকে শোনান ও উপভোগ করেন।
অবসরপ্রাপ্ত
সুজন কুমার দাস
বর্তমানে অধিকাংশ গৃহকোণেই রেডিও হয়তো নেই, তবু বিকল্প ডিজিটাল মাধ্যমেই ভোরবেলা নিয়ম করে বেজে ওঠে চেনা চণ্ডীপাঠ। যান্ত্রিকতার ভিড়েও নস্টালজিক নবীন প্রজন্ম বারবার প্রমাণ করেছে— মাধ্যম বদলালেও মহালয়ার ভোরে বাঙালির এই চিরায়ত আবেগ ফুরোয়নি, বরং যুগোত্তীর্ণ হয়ে তা আরও নিবিড় ও শাশ্বত হয়েছে।
অধ্যাপক
অ্যামেলিয়া দাস
এখন যা অতীত, তা কোনো না কোনো সময়ের বর্তমান। আর বর্তমান মানেই আধুনিক। সময় এগিয়ে যায়। ভালো লাগাটা বদলায় না। আধুনিক প্রজন্ম এগিয়ে যেতে চায় ঠিকই, কিন্তু অতীতই সেই আধুনিকতার ভিত। মহালয়ার দিন ভোরে উঠে বেতার মাধ্যমে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী শোনার চল এখনও বিদ্যমান।
ছাত্রী
অনুপ্রিয়া নন্দ
মহালয়া মানে পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনা। বাঙালির মহালয়ার ভোর শুরু হয় বেতারে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনীর মাধ্যমে। নতুন প্রজন্ম হোক বা পুরানো— দেবীর আগমন বার্তা সকলের কাছে সমান আবেগ তৈরি করে। সারাবছর এই দিনের জন্য আমরা বর্তমান প্রজন্মও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। তাই রেডিওর এই বিশেষ অনুষ্ঠান আমাদেরও আবেগপ্রবণ করে তোলে।
কলেজ ছাত্রী