


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: গত কয়েকদিনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা হয়েছে। এর জেরে সীমান্তে থেমেছে গোলাগুলির শব্দ। এরই অপেক্ষায় ছিলেন কাশ্মীর উপত্যকাবাসী। তাঁরা চাইছেন এই যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হোক। শনিবার রাত ১১টার পর থেকে বিমান, ক্ষেপণাস্ত্রের আওয়াজ বা আকাশে ড্রোনের দেখা মেলেনি। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন উপত্যকাবাসী। রাওয়ালপোড়ার বাসিন্দা শাহজাহান দার বলেন, ‘অনেক দিন পর আমরা শান্তিতে ঘুমোলাম। যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমন করতে যাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
তবু ঘর পোড়া গোরু তো! তাই তাঁদের মনে রয়ে গিয়েছে আশঙ্কার মেঘ। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর সীমানা এলাকার অনেকেই নিরাপদ জায়গায় সরে গিয়েছিলেন। তাঁরা এখনই ঘরে ফিরে আসতে ভরসা পাচ্ছেন না। বেশ কয়েকদিন নিরাপদ স্থানে থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে চাইছেন তাঁরা। উরির বাসিন্দা আব্দুল আজিজও ঘর ছেড়েছিলেন। তিনি বলছেন, ‘সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণার পরেও সারা রাত ধরে আকাশে ড্রোন ও রকেটের আনাগোনা দেখেছি আমরা। তাই আমাদের একটাই প্রার্থনা, এই সংঘর্ষবিরতি যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়। কয়েকদিন এখানে থেকে দেখি পরিস্থিতি কোনদিকে যায়।’
টানা ছ’দিন পর রবিবার সকাল থেকে স্বাভাবিক জনজীবনে ফিরতে শুরু করেছে উপত্যকা। নতুন করে আর সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে গোলাগুলি চালানোর ঘটনা ঘটেনি। শ্রীনগর সহ উপত্যকার নানা অংশ স্বাভাবিক হয়েছে জনজীবন। দোকান বাজারে গিয়ে মানুষজন কেনাকাটা করেছেন। বাজারের ব্যাগ হাতে মুস্তাক আহমেদ জানালেন, ‘শনিবার সন্ধ্যা অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে কেটেছিল। চারদিকে বিস্ফোরণের শব্দে নতুন করে চমকে গিয়েছিলাম। এরপরেই ব্ল্যাক আউট ঘোষণা করা হল। ছেলেমেয়েদের আশ্বাস দিয়ে বলেছিলাম, তাড়াতাড়ি সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু ওরা মানতে চায়নি।’ সংঘর্ষবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন উরির বাসিন্দা সৈয়দ মুস্তাফা। তাঁর কথায়, ‘আমরা চাই সংঘর্ষবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হোক। জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি ফিরুক। যুদ্ধ কোনও সমাধান নয়।’ উরির বাসিন্দা ৪৫ বছরের গুলাম নবি বলেন, ‘উত্তেজনায় ঘুম উড়ে গিয়েছিল। শুধুমাত্র জামা-কাপড় নিয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। এখন আবার বাড়িতে ফিরব। তবে আমাদের সব গিয়েছে— বাড়িঘর, জমি জিরেত, গবাদি পশু।’