


নয়াদিল্লি: ফের প্রাণ কাড়ল অনলাইন মোবাইল গেমের আসক্তি! ব্লু হোয়েল বা মোমো চ্যালেঞ্জের মতো প্রাণঘাতী অনলাইন গেমের স্মৃতি উসকে দিল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের মর্মান্তিক ঘটনা। মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি বহুতলের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী তিন বোন। মৃতদের বাবা জানিয়েছেন, অনলাইন গেমে আসক্ত হয়ে পড়েছিল তাঁর তিন মেয়ে। এর জেরেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে সুইসাইড নোট। যদিও এক প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান রহস্য উস্কে দিয়েছে। তাঁর দাবি, প্রথমে ঝাঁপ দিয়েছিল এক নাবালিকা। তাকে বাঁচাতে গিয়ে অন্য দু’জনও পড়ে যায়।
জানা যাচ্ছে, মৃত তিন বোনের নাম নিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২)। তাদের বাবা চেতন কুমারের দুটি বিয়ে। নিশিকা তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তান। অন্যদিকে প্রাচী ও পাখি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান। কোভিডের পর থেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল তারা। আসক্ত হয়ে পড়ে মোবাইলে। মূলত কোরিয়ান ড্রামা, মিউজিক, কে পপই দেখত তাঁরা। তা নিয়ে মেয়েদের একাধিকবার বকাঝকাও করেন চেতন ও তাঁর স্ত্রী। কেড়ে নেওয়া হয়েছিল মোবাইলও।
চেতন জানিয়েছেন, জল খাওয়ার কথা বলে মোবাইল হাতে বারান্দায় যায় তিন কিশোরী। তারপর বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঝাঁপ দেয় তারা।
কিশোরীদের ঘর থেকে একটি আট পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। যেখানে লেখা,‘সরি বাবা। এই ডায়েরিতে যা যা লেখা রয়েছে, সব সত্যি।’ মেঝেতে ছড়ানো-ছেটানো ছিল পরিবারের সদস্যদের ছবি। দেওয়ালে লেখা, ‘আমি খুবই একা। আমার জীবনে একাকিত্ব ছাড়া আর কিছুই নেই।’
পুলিশ জানিয়েছে, ‘ওই কিশোরীরা একটি অনলাইন গেমে আসক্ত ছিল। গেমের প্রভাবে তিন নাবালিকা নিজেদের কোরিয়ার রাজকন্যা বলে মনে করত।’ নাবালিকার বাবা জানিয়েছেন, প্রাচী তাঁকে এই গেমের কথা বলেছিল। জানিয়েছিল, সে নেত্রী। অন্য দুই বোন তাকে মেনে চলে। তখনও গেমের ভয়াবহতা তিনি বুঝতে পারেননি।
জানা যাচ্ছে, এই কোরিয়ান গেমটি ব্লু হোয়েল বা মোমো চ্যালেঞ্জের মতোই একটি টাস্ক বেসড গেম। যেখানে সমাজমাধ্যম কোনও ব্যক্তি নিজেকে কোরিয়ান বা অন্য কোনও দেশের বাসিন্দা দাবি করে শিশু বা কিশোরের সঙ্গে পরিচয় করে। ধীরে ধীরে ভরসা বাড়ানোর পর দেওয়া হত টাস্ক। সময় যত এগোয় ততই কঠিন হতে থাকে চ্যালেঞ্জ। টাস্ক পূরণ করতে না চাইলে দেওয়া হয় বিভিন্ন ধরনের হুমকি। ৫০ তম দিনে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়। যদিও গাজিয়াবাদের ঘটনায় এই গেমের কোনও প্রত্যক্ষ যোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।