


ওয়াশিংটন: জল, স্থল, আকাশের সীমানা ছাড়িয়ে মার্কিন মারণাস্ত্র পৌঁছে গিয়েছে মহাকাশে! পৃথিবীর কক্ষপথে তা রাখা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা চলছিল। অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন বায়ুসেনা সচিব ট্রয় মিঙ্ক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের হামলা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে পৃথিবীর কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন করার প্রয়োজন ছিল। আমেরিকার এই ঘোষণার পর পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীনও। মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেখানে যুদ্ধের প্রস্তুতি অবিলম্বে বন্ধ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে বেজিংয়ের তরফে।
সোমবার ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ বক্তব্য রাখার সময় মিঙ্ক বলেন, ‘আমেরিকার সামনে সামরিক ক্ষেত্রে একাধিক হুমকি রয়েছে। প্রতিপক্ষরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ঝুঁকি রয়েছে মহাকাশেও। তবে আমেরিকা প্রস্তুত। সেই কারণেই পৃথিবীর কক্ষপথে মোতায়েন করা হয়েছে অস্ত্রগুলি।’ কিন্তু কী সেই অস্ত্র, তার ক্ষমতা কত এবং কবে সেগুলিকে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তবে এব্যাপারে কিছুটা আঁচ পাওয়া গিয়েছে মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্রের কথায়। তিনি জানিয়েছেন, এই অস্ত্রগুলি আক্রমণ এবং আত্মরক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা সম্ভব। অর্থাৎ শত্রু দেশ যদি উপগ্রহ ধ্বংসের চেষ্টা চালায় তাহলে এই অস্ত্র ঢাল হয়ে রুখবে। আবার চাইলে আক্রমণও করতে পারবে। সেই আক্রমণ অবশ্য তথাকথিত যুদ্ধের মতো নয়। সেকথায় সায় দিয়েছেন রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের ডঃ ব্লেডিন বোয়েন। তাঁর ব্যাখ্যায় ওই অস্ত্রগুলি মূলত ‘কাইনেটিক কিল ভেহিকল’। অর্থাৎ এই অস্ত্র ছুড়ে শত্রু দেশের উপগ্রহ ধ্বংস করা যেতে পারে। এতে সবার আগে অকেজো হবে সংশ্লিষ্ট দেশের জিপিএস। এতে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন বেহাল হবে, তেমনই দেশটির সামরিক ক্ষমতাও কমবে। জিপিএস বেহাল হলে সেই দেশ শত্রুর ঘাঁটিতে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারবে না। তবে বোয়েনের মতে, এমন সম্ভাবনা কম। কারণ, এ ধরনের হামলায় উপগ্রহ ধ্বংস হয়ে বিপুল ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়তে পারে মহাকাশে। এছাড়া এই অস্ত্রের মাধ্যমে রেডিয়ো জ্যামিংয়ের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন তাদের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শত্রুদের হুমকি থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করাই লক্ষ্য। ২০১৯ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন শাখা হিসাবে স্পেস ফোর্স তৈরি হয়। গত বছর একটি নির্দেশিকায় স্পেস ফোর্সের ভূমিকার উপর জোর দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে শুধু মহাকাশে মার্কিন সম্পদ রক্ষা নয়, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক অভিযান চালানোর সক্ষমতার কথাও বলা হয়েছিল।