


নয়াদিল্লি, ১৬ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সঙ্গে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজের সংঘর্ষ। ওমানের প্রায় ২২০ কিলোমিটার পূর্বে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের কূটনীতিক সাদ আহমদ ওয়ারিচকে তলব করল নয়াদিল্লি। এই ঘটনার প্রতিবাদে পাকিস্তানের কাছে কড়া বার্তা দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, গতকাল উত্তর আরব সাগরে রুটিন নজরদারি চালানোর সময় একটি ভারতীয় ফ্রন্টলাইন যুদ্ধজাহাজের কাছে চলে আসে ওই পাকিস্তানি জাহাজটি। অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং দিক পরিবর্তন করে এগিয়ে আসায় দুটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষটি হয়। তবে এই ঘটনায় বড়ো ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলেই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।
পাশাপাশি বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এই আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তির ১০ নম্বর ধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ওই চুক্তিতে সামরিক মহড়া, কৌশলগত গতিবিধি এবং সেনা চলাচল সম্পর্কে আগাম জানানোর বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। পাকিস্তানের কূটনীতিক সাদ আহমদ ওয়ারিচকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের বার্তা পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামরিক ইউনিটগুলিকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন এবং দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তিগুলি মেনে চলার কথাও জানানো হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়েও নজর রাখতে বলা হয়।
পাশাপাশি ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকেও পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে একই ধরনের বার্তা দেওয়ার নির্দেশ হয়। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত পাকিস্তানি জাহাজটি হুনাইন শ্রেণির একটি করভেট হতে পারে। তবে ঠিক কোন ভারতীয় ও পাকিস্তানি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে তা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনার সময় সমুদ্র উত্তাল ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরে দুই জাহাজকেই নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর মধ্যে এই ধরনের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১১ সালের জুন মাসেও পাকিস্তানি নৌবাহিনীর বাবুর এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর আইএনএস গোদাবরীর মধ্যে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গিয়েছে।