


ভোপাল: বন্দে মাতরম গাইবেন না। দুই মহিলা কংগ্রেস কাউন্সিলারের এমন ঘোষণায় তীব্র বিতর্ক দেখা দিল ইন্দোর পুরসভায়। বৃহস্পতিবার পুর অধিবেশনে বাজেট বিতর্কের আগে বন্দে মাতরম সঙ্গীত পরিবেশনের সময় ফৌজিয়া শেখ আলিম এবং রুবিনা ইকবাল উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপরই সভায় তীব্র উত্তেজনা দেখা যায়। ফৌজিয়া সরাসরি অধ্যক্ষকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, ‘বন্দে মাতরম গাইতেই হবে এমনটি আইনের কোন বইতে আছে? আমাকে দেখান। নির্দিষ্ট করে আইনটি জানান।’ এরপরেই বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করা হয়। ভোপাল শহর বিজেপির সভাপতি সুমিত মিশ্র বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় এই গান প্রেরণা জুগিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, ভগৎ সিং সকলেরেই এই গান প্রিয় ছিল।’
শাসক-বিরোধী তরজায় এরপর পুরসভায় কান পাতাই দায়। পরিস্থিতি শান্ত করতে ফৌজিয়াকে কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ মুন্নিলাল যাদব। প্রতিবাদে সরব হন রুবিনা। সভার বাইরে তিনি বলেন, ‘ইসলামে বন্দে মাতরম গাওয়া নিষিদ্ধ। তার মানে এই নয় যে ‘সারে জাঁহা যে আচ্ছা, হিন্দুস্তান হামারা’ গাইব না। কোরানে বন্দে মাতরম নিষিদ্ধ। কারণ এখানে আল্লাহই শেষ কথা। বন্দে মানে পুজা। মাতরম মানে মা। আমরা কেবল আল্লার উপাসনা করি। অন্যকিছু মানব কেন?’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘বহু বিজেপি সদস্য তাঁদের এলাকায় মুসলিমদের দোকান খুলতে দেন না। সেক্ষেত্রে তো ভারতের ইরান থেকে তেল-গ্যাস আনা উচিত নয়।’ এমনকী নিজের দল কংগ্রেসকেও রেয়াত করেননি রুবিনা। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস কেবল মুসলিমদের ভোটব্যাঙ্ক হিসাবেই দেখেছে। কংগ্রেস আমাদের তাড়ালে আমরা নির্দল বা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলে নাম লেখাব।’
কংগ্রেস অবশ্য ফৌজিয়া এবং রুবিনার সমালোচনা করেছে। দলের মুখপাত্র কে কে মিশ্র বলেন, ‘যাঁরা বন্দে মাতরম গাইবেন না, তাঁরা নরকে যাক। ওঁদের পাকিস্তানে যেতে বলুন।’