


নিউইয়র্ক, ৩০ এপ্রিল: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ জনের। গোটা বিশ্ব নিন্দা করেছে এই ঘটনার। এই ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্ক পৌঁছেছে তলানিতে। ২৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যুর জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশবাসী। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার টিআরএফ গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। যাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়াচ্ছে ভারত। সন্ত্রাসবাদের মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠছে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে। পহেলগাঁও ইস্যুতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এবার কী যুদ্ধের পথে হাঁটবে নয়াদিল্লি? সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। বিগত কয়েকদিন ধরেই পহেলগাঁও ইস্যুতে একাধিক বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কখনও সেনাবাহিনীর তিন প্রধান, কখনও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক করেছেন তিনি। যার ফলে অনেকের অনুমান ইসলামাবাদের উপর প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে নয়াদিল্লি। এই আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোন করলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। সেই কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের ফোন পেয়েছি। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।’ যদিও পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও যোগ নেই বলেই আন্তোনিয়ো গুতেরেসকে জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এই বিষয়ে ভারত যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন বলেই জানিয়েছেন শাহবাজ শরিফ। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁরও। সেই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘ফোনে কথা হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের সঙ্গে। আমি তাঁকে জানিয়েছি পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। ভারতের সমস্ত অভিযোগও ভিত্তিহীন। পহেলগাঁও হামলা নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছি। সঙ্গে তাঁকে এও বলেছি জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্যা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘ কোনও পদক্ষেপ নিক। আমরা শান্তি চাই।’ কিন্তু আচমকাই কেন এই ফোন? বিশেষজ্ঞদের মতে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। ইজরায়েল বনাম হামাস ও ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে মানবতা। তাই আর নতুন করে কোনও দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ুক, তা চায়না রাষ্ট্রসঙ্ঘ। তাই এই ফোন করেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব।