


নয়াদিল্লি: ‘অনলাইন করে দিন না...!’ মুদি দোকান থেকে সব্জিওয়ালা, এই কথাটা এখন সর্বজনশ্রুত। অনলাইন মানে? ইউপিআইয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট। ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস। ৫ টাকা হোক বা ৫০ হাজার, মুহূর্তে হয়ে যাচ্ছে লেনদেন। হাতে শুধু ফোন থাকলেই হল। বহুল ব্যবহৃত। এবং খুচরোর পাঠ প্রায় চুকিয়েই দিয়েছে ইউপিআই। নরেন্দ্র মোদির ডিজিটাল ভারতের সুফল যদি কোথাও মিলে থাকে, তাহলে তা এই ধরনের লেনদেনে। ইউপিআই ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই অবশ্য কপালের ভাঁজ বাড়ছে সরকারের। কেন? যুক্তিটা হল, কতদিন আর ইউপিআই পেমেন্ট পরিকাঠামোর পুরো খরচ কেন্দ্র বহন করে যাবে? এর জন্য ভালোরকম অঙ্ক ভর্তুকি দিতে হয় ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। ফলে এই পরিষেবায় নিয়ন্ত্রণ তো প্রয়োজন বটেই, পাশাপাশি ‘ফ্রি’ লেনদেনের জমানাও শেষ হওয়া উচিত। আগামী ১ আগস্ট থেকে ইউপিআই ব্যবহারে ব্যালান্স ও স্টেটাস চেকের মতো কিছু নিয়মে পরিবর্তন আসছে। অর্থাৎ, এই পরিষেবা দিনে বা মাসে কতবার ব্যবহার করা যাবে, সেই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে চলেছে কেন্দ্র। তবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার একটি মন্তব্য আম জনতাকেও নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করছে। কারণ, শুধু নিয়ন্ত্রণেই থেমে থাকার পক্ষপাতী নন তিনি। ইউপিআই লেনদেনেও ‘চার্জ’ বসানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন আরবিআই গভর্নর। তাঁর সাফ কথা, ‘টাকাপয়সা ও লেনদেন এই ব্যবস্থার লাইফলাইন। এর জন্য সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। সেটাও আন্তর্জাতিক মানের। এখন ইউপিআই পরিষেবার জন্য কোনও মূল্য দিতে হয় না সাধারণ মানুষকে। কারণ, ব্যাঙ্ক ও সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে এই ভর্তুকি দেয় সরকার। ফলে কিছুটা হলেও খরচ তো বহন করতেই হবে।’ কে বহন করবে? ইঙ্গিতটা স্পষ্ট, যে পরিষেবা নেয় বা সুবিধা ভোগ করে, সে। অর্থাৎ, আম জনতা। যাঁর সারা দিনে ২০০ টাকা রোজগার সেই সব্জিওয়ালা, কিংবা সদ্য কলেজের গণ্ডিতে পা দেওয়া পড়ুয়া। আরবিআই গভর্নরের যুক্তি, ইউপিআই পরিষেবা টিকিয়ে রাখতে গেলে এর খরচ মেটাতে হবে ব্যবহারকারীদেরই।
গত দু’বছরে ইউপিআই লেনদেনের অঙ্ক বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এখন দিনে গড়ে ৬০ কোটি লেনদেন হয় এই প্ল্যাটফর্মে। এবার এই কাঠামোকে স্বনির্ভর করার উপরই জোর দিচ্ছেন সঞ্জয় মালহোত্রা। আগামী ১ আগস্ট থেকে এমনিতেই বেশ কিছু বদল আসছে ইউপিআই নিয়ম-নীতিতে। ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, ইউপিআই ব্যবহারকারীরা দিনে ৫০ বারের বেশি অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স চেক করতে পারবেন না। গ্রাহকরা তাঁদের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখতে পারবেন সর্বাধিক ২৫ বার। কোনও একটি লেনদেনের স্টেটাস তিনবারের বেশি চেক করা যাবে না। আর সেক্ষেত্রেও কমপক্ষে দেড় মিনিটের ব্যবধান থাকতে হবে। ইউপিআইয়ের অটো পেমেন্টেও চালু হচ্ছে নির্দিষ্ট টাইম স্লট। এখন থেকে ইএমআই, বিদ্যুতের বিল বা সাবস্ক্রিপশনের টাকা দিনের যে কোনও সময় কেটে নেওয়া যাবে না। ১ আগস্ট থেকে শুধু নির্ধারিত সময়েই সেগুলি প্রসেস হবে। এনসিপিআই জানিয়েছে, ব্যস্ত সময়ে সার্ভারে চাপ কমানোই এর লক্ষ্য। এরপর যদি লেনদেনে টাকা চাপানো হয়, তাহলে শুধু নিয়ন্ত্রণে থমকে থাকবে না ইউপিআই পেমেন্ট ব্যবস্থা। আম জনতাকেই দিতে হবে ডিজিটাল ভারতের ‘কর’।