


তেহরান: ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরত্ব ২৮ কিলোমিটার। আয়তন মেরে কেটে ২০ বর্গকিলোমিটার। পারস্য উপসাগরের এই খার্গ দ্বীপই এবার আমেরিকা-ইরান সংঘাতের কেন্দ্রে। শুক্রবার রাতে (ভারতীয় সময়) সেখানে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওই দ্বীপে অবস্থিত সকল সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে সেখানে থাকা তেলের পরিকাঠামোগুলি ধ্বংস করা হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসিও। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সহযোগী দেশগুলির তেলের ভাণ্ডার মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি তেহরানের।
আয়তনে ছোট হলেও ইরানের তেল ব্যবসার মূল কেন্দ্র খার্গ। ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এই ছোট্ট দ্বীপটি থেকে। এখানে স্টোরেজ ট্যাঙ্ক, লোডিং টার্মিনাল, পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো রয়েছে। এই দ্বীপ একবার হাতছাড়া হলে তেহরানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শুক্রবারের এই আক্রমণকে ‘পশ্চিম এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বোমা হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন ট্রাম্প।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, খার্গে অন্তত ১৫টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে খার্গ দ্বীপ থেকে ইরানের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, খার্গে অবস্থিত ইরানের এয়ার ডিফেন্স, নৌঘাঁটি ও বিমান বন্দরে হামলা চালানো হয়েছে।
পালটা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। সেদেশের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাভের হুমকি, ইরানের দক্ষিণ সমুদ্রে অবস্থিত দ্বীপগুলিতে হামলা হলে তার চরম মূল্য চোকাতে হবে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হুমকি, আমেরিকার সঙ্গে যুক্ত পশ্চিম এশিয়ার যাবতীয় তেল, অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিকাঠামোকে নিশানা করা হবে। ছাড় পাবে না মার্কিনীদের বন্দর, ডক, গোপন ঘাঁটিগুলিও।