


নয়াদিল্লি: ২০২৩ সালের এপ্রিল-মে। দেশের রাজনীতি ও ক্রীড়াজগতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল দিল্লির যন্তরমন্তরে ওলিম্পিয়ান সহ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কুস্তিগিরদের ৩৬ দিনের ধরনা কর্মসূচি। ধরনায় শামিল ভিনেশ ফোগাট, সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়াদের অভিযোগ ছিল, ছয় মহিলা কুস্তিগিরকে যৌন হেনস্তা করেছেন তৎকালীন বিজেপি সাংসদ তথা রেসলিং ফেডারেশনের প্রধান ব্রিজভূষণ শরণ সিং। যদিও তিন বছর পর সোমবার যৌন নিগ্রহের সেই মামলা থেকে ব্রিজভূষণ সিংকে বেকসুর খালাস করে দিল দিল্লির একটি আদালত। রেহাই পেয়েছেন রেসলিং ফেডারেশনের প্রাক্তন সহকারী সচিব বিনোদ তোমারও। এদিন অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার বলেছেন, প্রমাণের অভাব ও মামলার সাক্ষীদের পরস্পর বিরোধী বয়ানের কারণে অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস করা হয়েছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে ‘মর্মাহত’ প্রতিবাদী কুস্তিগিররা। এক্স হ্যান্ডলে ভিনেশ ফোগাট, বজরং পুনিয়াদের তরফে বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা ছাড়িনি। লড়াই চলবে। এই রায়কে শীঘ্রই চ্যালেঞ্জ জানানো হবে।’ শেষ দেখতে মরিয়া ভিনেশ ফোগাটের অভিযোগ, ‘বরাবর প্রশাসন, সরকার ও সরকারি ব্যবস্থাপনাই ব্রিজভূষণকে রক্ষার কাজ চালিয়ে গিয়েছে।’
চাপের মুখে পড়ে গত লোকসভা নির্বাচনে ছ’বারের সাংসদ ব্রিজভূষণকে টিকিট দেয়নি বিজেপি। প্রার্থী করা হয়েছিল তাঁর পুত্রকে। রেসলিং ফেডারেশন প্রধানের পদ থেকেই ইস্তফা দিতে হয়েছিল এই বিজেপি নেতাকে। এদিন আদালত তাঁকে মুক্তি দেওয়ায় শুধু কুস্তিগিররা নন, সরব বিরোধী নেতানেত্রীরাও। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ঠেস, ‘একদিকে ওরা (বিজেপি) বলছে যুব সমাজের পাশে থাকার কথা। সেই সঙ্গে মহিলা সশক্তিকরণ ও সংরক্ষণ ইত্যাদি। অন্যদিকে এমনটা ঘটছে।’ মহারাষ্ট্রের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালের তোপ, ‘আমাদের দুর্ভাগ্য, একটি মূক, বধির ও অন্ধ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। বিজেপির প্রকৃত চেহারা ফাঁস হয়ে গিয়েছে।’
এদিন রীতিমতো পটকা ফাটিয়ে ও পুষ্পবৃষ্টি করে ব্রিজভূষণকে স্বাগত জানান অনুগামীরা। আর দৃশ্যতই খুশি ব্রিজভূষণ বললেন, ‘আমি প্রথম দিনই বলেছিলাম, অভিযোগগুলি সত্যি হলে আত্মহত্যা করব। আজ আমি অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ায় খুব খুশি।’ প্রতিবাদী মহিলা কুস্তিগিরদের প্রসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ‘এটা ওদের জন্য খুবই খারাপ সময়। ওরা কতটা ব্যথিত, সেটা ওরাই বলতে পারবে, আমি পারব না।’