


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বুধবার মধ্যরাত পেরিয়ে লোকসভায় পাশ হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল, ২০২৫। বৃহস্পতিবার কার্যত একই ছবি দেখা গেল রাজ্যসভাতেও। গভীর রাত পর্যন্ত চলল আলোচনা। সংসদের উচ্চ কক্ষে ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে কেন্দ্রের মোদি সরকারকে রীতিমতো কোণঠাসা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন বেলা ১টায় রাজ্যসভায় সংশ্লিষ্ট বিলটি পেশ করেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। জানিয়ে দেন, এর নাম ‘উমিদ’। তারপরই এই বিলের উপর শুরু হয় আলোচনা। রাজ্যসভায় বিল পাসের পরেই তা পাঠানো হবে রাষ্ট্রপতির কাছে। তিনি স্বাক্ষর করলেই তা পরিণত হয়ে যাবে আইনে। অর্থাৎ, তিন তালাক এবং ওয়াকফের পর পড়ে থাকবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। এদিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূল সাংসদ নাদিমুল হক প্রশ্ন তোলেন, এই বিলে আছে যে ওয়াকফকে জমি ও সম্পত্তি দান করতে হলে অন্তত পাঁচ বছর ইসলাম ধর্মাচরণ করতে হবে। একজন মুসলমান ব্যক্তি তাঁর পাঁচ বছরের ইসলাম ধর্মাচরণের প্রমাণ দেবেন কীভাবে? এর জন্য কি তাঁকে আবারও কারও শংসাপত্র জোগাড় করতে হবে?
এদিন পুরো ভাষণই নাদিমুল দিয়েছেন উর্দুতে। তাঁর অভিযোগ, এখন ওয়াকফের উপর হচ্ছে। পরবর্তী ক্ষেত্রে মন্দির, গুরুদ্বার, গির্জার উপর হবে। এই বিলের মাধ্যমে দেশকে বিভাজনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর বিরোধী এবং অসাংবিধানিক। বিলের বিরোধিতায় ১০টি পয়েন্ট তুলে নাদিমুল দাবি করেছেন, ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে খতিয়ে দেখার জন্য সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হোক। তিনি বলেন, বারবার মোদি-শাহ বাংলায় গেলেও কোনও লাভ হবে না। ২০২৬ সালেও বাংলার মানুষ তাঁদের ফিরিয়ে দেবেন। ঘটনাচক্রে বৃহস্পতিবার বিরোধীদের হট্টগোল ছাড়াই রাজ্যসভায় বিলটি পেশ করেছেন রিজিজু। বিল পেশের সময় তিনি বলেন, এক কোটিরও বেশি মানুষ এতে মতামত জানিয়েছেন। যৌথ সংসদীয় কমিটি দেশের ১০টি শহরে গিয়েছে রিপোর্ট প্রস্তুত করার জন্য। এত ব্যাপকভাবে কাজ এর আগে কখনও হয়নি। এই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন বিলের উপর আলোচনায় কংগ্রেস সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন জানিয়েছেন, অন্তত ৯৭-৯৮ শতাংশ মানুষই এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। পক্ষে আর বিপক্ষের পরিসংখ্যান দিলেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। জবরদস্তি সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা হয়েছে। এমন মানুষের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে, যাদের সঙ্গে ওয়াকফের দূরদূরান্তেও কোনও সম্পর্ক নেই। ধর্মের ভিত্তিতে আইন তৈরি করে আদতে মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে বিজেপি।
কর্ণাটকের এই কংগ্রেস এমপিকে উদ্দেশ করে এদিন বিজেপি সাংসদ রাধামোহন দাস আগরওয়াল অভিযোগ করেন, আপনাদের রাজ্যে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। এহেন মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে বিরোধী দলগুলি। এমনকী কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে যায় তৃণমূল। আলোচনায় অংশ নেন ডিএমকের তিরুচি শিবা, আপের সঞ্জয় সিং, কংগ্রেসের অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি, এনসিপির প্রফুল্ল প্যাটেল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে তীব্র কটাক্ষ করে শিবসেনা-ইউবিটির এমপি সঞ্জয় রাউত বলেন, মহম্মদ আলি জিন্নাও এত মুসলমানদের কথা ভাবেননি, গত দু’দিন ধরে যত আপনি ভাবছেন। আলোচনায় অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেন, তিন তালাক নিয়েও পূর্বতন কংগ্রেস সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি। আগের ওয়াকফ বিলেরও অপব্যবহার হয়েছে। ইসলাম ধর্মাচরণের প্রমাণ কাউকে দিতে হবে না। আমরা মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষার কথা বলেছি।