


নয়াদিল্লি: কোন যুক্তিতে ভোটার তালিকায় মৃত এবং বিদেশিদের নাম রাখা হবে? ভোটমুখী বিহারে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) নিয়ে বৃহস্পতিবার রীতিমতো সাফাই দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার গণেশ কুমার।
বিহারে বিধানসভা ভোটের আর বাকি কয়েকমাস। তার আগে ভুয়ো ভোটার ধরতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৬ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই ইস্যুতে সরব কংগ্রেস, আরজেডি সহ বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, বেছে বেছে বিরোধীদের সমর্থনকারীদের নাম সরানো হচ্ছে। বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই কমিশনের এই পদক্ষেপ। এপ্রসঙ্গেই এদিন তোপ দাগেন গণেশ কুমার। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, কেন বিদেশি নাগরিকদের নাম ভোটার তালিকায় রাখা হবে? এনিয়ে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়। মৃত এবং যাঁরা স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা একাধিক স্থানে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় রাখার কোনও যুক্তি নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বিশুদ্ধ ভোটারই হল গণতন্ত্রের স্তম্ভ। তাঁর কথায়, প্রথমে বিহার দিয়ে শুরু হয়েছে। এবার অন্যান্য রাজ্যগুলিতেও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হবে। এদিন কমিশন বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বিহারে তালিকা থেকে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ২১ লক্ষ ৬০ হাজারই মৃত। সাড়ে ৩১ লক্ষ মানুষ স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। এছাড়াও একাধিক স্থানে নাম রয়েছে সাত লক্ষ ভোটারের। এক লক্ষ ভোটারের খোঁজ মেলেনি। এছাড়া বাড়ি বাড়ি যাওয়া সত্ত্বেও প্রায় সাত লক্ষ মানুষের ইনিউমারেশন ফর্ম এখনও জমা পড়েনি। বিহারের ৭ কোটি ২১ লক্ষ ভোটারের নাম ইতিমধ্যেই অনলাইনে তোলা হয়ে গিয়েছে, যা মোট ভোটারের ৯১.৩২ শতাংশ। আগামী ১ আগস্ট খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এদিনও এসআইআরের প্রতিবাদে বিহার বিধানসভায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেস, আরজেডি সহ বিরোধীরা। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের প্রশ্ন, ‘লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অর্থ গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। মানুষ যদি ভোট দিতে না পারেন, তাহলে নির্বাচন করার অর্থ কী?’