


নিজস্ব প্রতিনিধি, আমেদাবাদ: পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দামামা তুঙ্গে। কিন্তু বিজেপি কি পারবে গঙ্গাপাড়ের নবান্ন দখল করতে? বাংলায় গেরুয়া পতাকা ওড়াতে? স্বয়ং নরেন্দ্র মোদির রাজ্যই এ নিয়ে ঘোর সংশয়ে। দিনভর গুজরাতের প্রাণকেন্দ্র আমেদাবাদে ঢুঁ মেরেও প্রধানমন্ত্রীর দলের উপর জনতার তেমন আস্থা চোখে পড়ল না।
মোদি মানেই উন্নয়ন—এমন প্রচারই চলে দেশজুড়ে। কিন্তু তা যে কতটা ফোলানো-ফাঁপানো, সেটা স্থানীয় বাসিন্দারাই জানেন। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যে অ্যাপ-ক্যাব চালক আনলেন হোটেলে, সেই মুনেশভাই যেমন বললেন, ‘আমেদাবাদে যা কিছু উন্নয়ন সবই গত দেড়-দু’বছরে হওয়া। তার আগে লম্বাচওড়া বুলিই চলত।’ সে কী! ২০১৪ পর্যন্ত গুজরাতের প্রশাসনিক সর্বেসর্বা ছিলেন স্বয়ং মোদি। কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে তাঁর নামটাই করলেন না মুনেশভাই। বললেন, ‘অস্বীকারের জায়গা নেই যে মোদিজিই বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন। এখানে বিপক্ষ বলে কিছু নেইও। কিন্তু উন্নতি এর আগে টের পাইনি।’ কিন্তু বাংলায় কী হবে মনে হয়? ক’দিন পরেই যে ভোট। স্পষ্ট উত্তর এল, ‘মোদিজি সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাবেন ঠিকই। কিন্তু দিদিকে কি হারাতে পারবেন? বলা মুশকিল! তবে মোদি বনাম দিদি লড়াই টি-২০ ফাইনালের মতোই জমবে।’
অনেকটা একই সুর অটোচালক কিরণের। বললেন, ‘রবিবার ভারতই টি-২০ বিশ্বকাপ জিতবে, একথাটা যতটা জোরে বলতে পারছি, সেভাবে কি বাংলায় বিজেপিই জিতবে বলা যাচ্ছে? না, একেবারেই নয়। কাঁটে কা টক্কর হবে। কারণ, মোদিজি পরাজয় মানতে পারেন না। আর বাংলায় তো প্রতিবারই হারতে হচ্ছে। তার পুনরাবৃত্তি হোক, এটা নিশ্চয় চাইবেন না।’ স্টেডিয়ামের বাইরে দেখা হল এক ক্রিকেটপ্রেমীর সঙ্গে। গত কদিন ধরেই টিকিটের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন মাঝবয়সি কিরণ। কিন্তু দামটা যে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বললেন, ‘আম আদমি সংসার চালাবে, ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করবে, নাকি ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে আসবে। শুধুই বড়োলোকদের জন্য সবকিছু করলে হবে। আমাদেরও তো খেলা দেখতে আসার ইচ্ছে হয়। কিন্তু আমরা দিন গুজরান করতেই হিমশিম খাচ্ছি।’
এই শহরে আগত অতিথিকে প্রথমেই শেখানো হয় কয়েকটা শব্দ... ‘মুসকুরাও, আপ আহমেদাবাদ মে হো।’ কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির জেরে এখানকার মানুষই হাসি ভোলার মুখে। হোটেলের ম্যানেজার কেতনের আবার রাজনীতিতে প্রচণ্ড আগ্রহ। গেস্ট কলকাতার শুনে নিজেই আলাপ জমালেন। জানতে চাইলেন নিজেই, ‘ভোটের হালচাল কী? এবারও কি রক্ত ঝরবে? বিজেপি কিন্তু সহজে ছাড়বে না। তবে উলটো দিকে দিদি রয়েছে... এটাই চিন্তার।’ একই সুর প্রবীণ বিনোদভাইয়েরও। কংগ্রেসের চিরকালীন ভোটার, সেজন্যই আক্ষেপ বেশি—‘এখানে তো বিরোধী বলে কিছুই নেই। কীভাবে লড়তে হয় বিজেপি’র বিরুদ্ধে, সেটা দিদিই দেখিয়ে দিয়েছে। শক্ত প্রতিপক্ষ পেলে মোদি কিন্তু বেহাল।’
আইটি সেক্টরে কাজ করেন কোমল। ভাইয়ের সঙ্গে রবিবার মোতেরায় আসবেন তিনি। অনলাইনে কাটা টিকিটের প্রিন্টআউট হাতে বললেন, ‘৮ মার্চ কিন্তু নারী দিবস। আর গোটা দেশের নারীদের কাছে দিদির লড়াই প্রেরণা। মেয়েরা সব ব্যাপারেই পিছিয়ে। সেজন্যই দিদিকে দেখলে মনে জোর পাই। আমি রাজনীতি বুঝি না। কিন্ত একজন মহিলা হিসেবে দিদির জয় চাই।’ যা বোঝা গেল, ৫৬ ইঞ্চির ছাতি আরও একবার না চুপসে যায়, সেই আশঙ্কাতেই রয়েছে মোদির শহর। মনে পড়ল ‘ডন’ সিনেমার অমর সংলাপ—দিদি কো হারানা মুশকিলই নেহি, না-মুমকিন হ্যায়!