


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মঙ্গলবার দপ্তর বণ্টনের নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর পরই নবান্নে পৌঁছে রাজ্যের বেহাল আর্থিক হাল ফেরানোর কাজ শুরু করে দিলেন রাজ্যের নয়া অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এদিন দুপুরে নবান্নে তাঁকে স্বাগত জানান অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র সহ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা। এদিন সকালে প্রথমে অর্থ সচিবের অফিসেই বৈঠকে বসেন স্বপনবাবু। সামনেই বাজেট, তাই বুঝে নিতে শুরু করেন রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির খুঁটিনাটি। প্রথম দিনেই প্রায় চার ঘণ্টা দপ্তরের কাজ কর্ম বুঝে নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভাগ করে নেন তাঁর পরিকল্পনা এবং রাজ্যের আর্থিক হাল ফেরানো নিয়ে ভাবনা চিন্তার কথা। বর্তমানে ঋণের বোঝায় চাপা পড়া অনুজ্জ্বল আর্থিক হালের কথা তুলে ধরে স্বপনবাবু জানান, কর না বাড়িয়ে রাজস্ব কী ভাবে বাড়ানো যায়, সেটাই হচ্ছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ক্ষেত্রে রাজস্ব চুরি এবং যথার্থ রাজস্ব আদায় সুনিশ্চিত করেই আর্থিক হাল ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করাটাই তাঁর অগ্রাধিকারের জায়গায় থাকবে। একই সঙ্গে পূর্বতন সরকারের ছেড়ে যাওয়া ঋণের বোঝা সামাল দিয়ে রাজ্যের উন্নয়নের চাকা গতিময় করতে ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর কথা বলেন রাজ্যের নয়া অর্থমন্ত্রী।
কী এই ‘মার্শাল প্ল্যান’? ঋণের বোঝা সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই এই প্ল্যানের কথা উত্থাপন করেন স্বপনবাবু। বিস্তারিত বুঝিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাকে (ঋণের বোঝা) তো মোকাবিলা করতেই হবে। আমাদের ইন্টারেস্ট পেমেন্ট (ঋণের সুদ প্রদান) করতে হচ্ছে। ইন্টারেস্ট পেমেন্ট না দিলে তো ধারের বোঝা আরও বাড়বে। এটা দুদিকেই একটা চক্রের মতো’’ সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘আশা করি, হয়ত সামনের দিনে আমরা কেন্দ্র সরকারের কাছ থেকে কিছু কিছু সাহায্য পাব। অনেকে বলেন, এটা একটা ‘মার্শাল প্ল্যান’ (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক সাহায্য প্রকল্প)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যখন জার্মানি দেশটা একদম ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তখন একটা স্পেশাল স্কিম বা বিশেষ প্রকল্প দিয়ে ওটাকে আবার দাঁড় করানো হয়েছিল, সেটাই মার্শাল প্ল্যান। পশ্চিমবঙ্গেও হয়তো সেরকমই একটা কোনো ধরনের মার্শাল প্ল্যান করতে হতে পারে।’
আগামী ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ বাজেটে পেশ করবে রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন সরকার। অন্নপূর্ণা যোজনা সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পের চাপ সামলে বাজেট পেশ করা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, অর্থমন্ত্রী জানান, ‘বাজেটটা তো আগামী আট মাসের জন্য। বাজেট তো একটা করতে হবে, নিশ্চয়ই। এখন একটা সমস্যা হয়ে গিয়েছে যে, জিএসটি তো আমাদের হাতে নেই। এখন সেটা জিএসটি কাউন্সিল দেয়। ওটার সুফল রাজ্য নিশ্চয়ই পায়, কিন্তু তার নীতি নির্ধারিত তো আমরা করতে পারব না একা। এখানে সাধারণত আমাদের আয়ের প্রধান উৎস কি? বলতে খারাপ লাগে, মদ আর পেট্রল! কিন্তু, আমাদের এমন বেশ কিছু রাজস্ব বৃদ্ধির জায়গা রয়েছে, যে গুলি পূর্বতন সরকারের আমলে কাজেই লাগানো হয়নি। তার মানে শুধু কর বসালে বা বাড়ালেই হয় না। আসল কাজ হল, সেটা আদায় করা।’
এদিন নবান্নে দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েছেন পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী অজয় পোদ্দার, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর জানা, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। দুই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী অজয়বাবু প্রথম দিনের প্রাথমিক আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন, বর্ষার পরেই চালু হবে রাস্তা মেরামত এবং তৈরির কাজ। এছাড়াও, রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গাদকারিরও দ্বারস্থ হবেন তিনি।