


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দেশের অধিকাংশ বিজেপি শাসিত রাজ্যেই বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিক, কর্মচারীরা। এসংক্রান্ত বিভিন্ন ‘ট্রেন্ড’ খতিয়ে দেখে ক্রমশ এই অভিযোগই প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ‘স্কিলড ওয়ার্কার’দের কম ন্যূনতম মজুরি দেওয়াই হোক বা কোনো লিখিত চুক্তি না করিয়ে কাজে যোগ দেওয়ানো— সব ক্ষেত্রেই দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। কম ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার তালিকায় রয়েছে ছত্তিশগড়, গুজরাত, বিহার, অসমের মতো ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ্য। আবার উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, রাজস্থান, হরিয়ানার মতো একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ কাজ করছে কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই। এই হার জাতীয় গড়ের থেকেও বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, সারা দেশে ৫৮ শতাংশ মানুষ কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই বিভিন্ন সংস্থা-প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
গত কয়েকদিনে লাগাতার শ্রমিক বিক্ষোভে আগুন জ্বলেছে যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশে। নয়ডা, মিরাট, গুরুগ্রামের মতো এলাকায় অশান্তির আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে শ্রমিক ইস্যুতে আরও কোণঠাসা হতে হয়েছে মোদি সরকারকে। এই আবহে মূলত বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে এহেন শ্রমিক বঞ্চনার পরিসংখ্যান যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন খতিয়ান থেকে দেখা যাচ্ছে, ‘স্কিলড ওয়ার্কার’ অর্থাৎ দক্ষ শ্রমিকদের মাসে ন্যূনতম মজুরির পরিমাণ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে সবথেকে কম ছত্তিশগড়ে। মাসে ১২ হাজার ৬০৬ টাকা। বিজেপি শাসিত রাজ্য গুজরাতে এর পরিমাণ মাসে ১৩ হাজার ৮৯৭ টাকা। ‘ডবল ইঞ্জিন’ বিহারে এর পরিমাণ মাসে ১৪ হাজার ৩২৬ টাকা।
অদক্ষ শ্রমিকদের মাসে ন্যূনতম মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়েছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি। এর পরিমাণ ছত্তিশগড়ে মাসে ১১ হাজার ১৭৬ টাকা। অসমে ১০ হাজার ৩৫৪ টাকা। গুজরাতে ১৩ হাজার ৩২৫ টাকা। কিন্তু এসব ছাপিয়ে গিয়েছে কোনো লিখিত চুক্তি না করিয়েই কাজে যোগ দেওয়ানোর বিষয়।